সিসি ডেস্ক: আসছে পৌরসভা নির্বাচনে মহাজোটের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে আসন ভাগাভাগি করতে চান জাতীয় পার্টির (জাপা) তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা এককভাবে লড়েই জেতার ব্যাপারে আশাবাদি। জাপার তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
তৃণমূল নেতাদের আশংকা, এককভাবে নির্বাচন করলে তাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক বা না আসুক কিছু মেয়র পদ জাপার প্রার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হলেই কেবল নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব। এতে করে জাতীয় পার্টিও কয়েকটি মেয়র পদে জিততে পারবে।
জাপার একাধিক মেয়র প্রার্থী জানান, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করার জন্য জাপার শীর্ষনেতাদের অনুরোধ করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ২৯ নভেম্বর মেয়র প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকেছেন। সেদিন তারা মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার অনুরোধ জানাবেন। কেননা, এককভাবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মতো অবস্থা তৃণমূল পর্যায়ে জাপার এখন নেই।
৩ নভেম্বর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ ২০ নভেম্বরের মধ্যে মেয়র প্রার্থীদের তালিকা পাঠাতে জেলা নেতাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত অধিকাংশ জেলা থেকেই মেয়র প্রার্থীদের তালিকা বনানী কার্যালয়ে পৌঁছেনি। এককভাবে নির্বাচনের অনাগ্রহ থেকেই জাপার প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাচ্ছেন না বলে জাপা সূত্র জানিয়েছে। এ অবস্থায় ঘোষিত ২৩৪টি পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীর সঙ্কটেও পড়ছে জাতীয় পার্টি।
তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য
জাতীয় পার্টি থেকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক মেয়র শফিক পাটোয়োরী বলেন, ‘আসলে সত্যি কথা কি, আমরাতো ভেবেছিলাম জাতীয় পার্টি মহাজোটে আছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটা সমঝোতা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত জানি না , সমঝোতা হবে-কি হবে না। সমঝোতা না হলে নির্বাচনে অংশ নিয়ে কী লাভ? ওরা তো সব থাবা মেরে নিয়ে যাবে। এজন্য ভাবছি নির্বাচনে যাব না। আসন ভাগাভাগির সমঝোতা হলে আছি।’
একই কথা বলেন টাঙ্গাইল জেলা যুব সংহতির আহ্বায়ক ও টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে মেয়র পদে জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী মির্জা আমিনুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায় থেকে আমাদের দাবি থাকবে, আমরা যেহেতু মহাজোটে আছি তাই পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদ যেন ভাগাভাগি হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আমরা ঠিকমতো আসন ভাগাভাগি করতে পারিনি। এবার যেহেতু নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তাই জাতীয় নির্বাচনে যেভাবে আসন ভাগাভাগি হয় তেমন করে মেয়র পদ ভাগাভাগি হলে ভাল হয়। আর টাঙ্গাইল সদর তো জাপার ঘাঁটি।’
শক্তি যাচাই করতে চান শীর্ষ নেতারা
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে আমরা এককভাবেই অংশে নেব। ২৯ নভেম্বর আমরা সারাদেশের প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকেছি সেখান থেকেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।’
স্থানীয় প্রার্থীদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার আগ্রহের বিষয়ে জাপার বর্তমান সময়ের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নেই। এককভাবে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব।’
জাতীয় পার্টির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেব। আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় শক্তি পরীক্ষা করার জন্যও এটা দরকার আছে।’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে মেয়র প্রার্থীদের সমঝোতার আগ্রহের বিষয়ে সোহেল রানা বলেন, ‘জাপার প্রার্থীদের মতেরও গুরুত্ব রয়েছে। যেখানে জাপার শক্তিশালী প্রার্থী আছে সেখানে যদি আ’লীগ কারচুপি না করে, গণ্ডগোল না করে সেখানো তো আমাদের প্রার্থীরা জয়ী হবে। এটা তো আওয়ামী লীগের জন্যই উপকারই হবে। দেশের জন্যই ভাল হবে। যে বিরোধী দল দেশের জন্য ভয়ংকর তারা আসতে পারল না। দেশের জন্য মঙ্গলজনক বিরোধী দলের প্রার্থীরা মেয়র হবে। তাই বিষয়টি আওয়ামী লীগকে ভাবতে হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর সারাদেশের ৪৬২টি উপজেলা নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে দুই জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
এ ছাড়া গত ২০১৪ সালের এপ্রিলের ৩ সিটি নির্বাচনও জাপা সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, উত্তরে মহানগর উত্তর জাপার সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছেন। জাপার প্রার্থীদের চেয়ে ৫ গুণ ভোট বেশী পেয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা।