সিসি ডেস্ক: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহানকে পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের প্রত্যয়নের দায়িত্ব দেওয়ায় দলের ভেতরে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। পৌর নির্বাচনের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে দলের সিনিয়র কোনো নেতাকে দায়িত্ব না দিয়ে তার মতো নেতাকে প্রার্থী প্রত্যয়নের দায়িত্ব দেওয়ায় অনেকে হতাশও হয়েছেন। কেউ কেউ তার নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেছেন।
দলের দায়িত্বশীল নেতারা মনে করেন, এই নির্বাচনে যেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহম্মদ এরশাদও নিজের হাতে রেখেছেন। সেখানে বিএনপির মত একটি জনপ্রিয় দলে প্রার্থী প্রত্যয়নের ক্ষমতা মো. শাহজাহানের মতো বিতর্কিত একজন নেতাকে দেওয়া ঠিক হয়নি। বিএনপিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা রয়েছেন যাদের এবিষয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের মধ্যে থেকে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিলো। আর তেমনটা করা হলে দলের জন্যও যেমন ভালো হতো পাশাপাশি দলের মধ্যে যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে তা হয়তবা থাকতো না।
দলের সূত্র জানায়, সারাদেশে দলের মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন ও প্রত্যয়নের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে মো. শাহজাহান এখন চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় কিংবা দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসছেন না। তিনি গুলশানে নিজের বাসায় বসে মেয়রপ্রার্থীদের প্রত্যয়ন করছেন। একাজে তাকে সহযোগিতা করছেন দলের সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল আহমেদ ও যুবদলের সাবেক নেতা আবদুল আউয়াল। তবে তার এই তিন সহযোগির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল থেকে আসা নেতাকর্মীরা।
সকাল থেকে গভীর রাত অবদি সারাদেশ থেকে আসা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশিদের ভিড় দলের প্রার্থী প্রত্যয়নের দায়িত্বে থাকা এই নেতার বাসভবন ঘিরে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলেন, শাহাজাহান দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কোনো কথা গুরুত্ব না দিয়ে নিজের পছন্দের লোকদেরকে প্রার্থী মনোনয়ন দিচ্ছেন। অনেক যোগ্য ও দলের নিবেদিত নেতাকর্মীকে বাদ দিয়ে তিনি অযোগ্য ও বিতর্কিত লোকদের অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রত্যয়ন করছেন। তারা বলেন, এমনিতেই তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা ভালো নয়। তার ওপর এভাবে আমাদেরকে মূল্যায়ন করলে আগামীতে দল সাংগঠনিকভাবে আরো দুর্বল হবে।
দলের সিনিয়র এক নেতা বলেন, মো. শাহাজাহান যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলে থাকলেও ওয়ান ইলেভেনে তিনি সংস্কারপন্থি নেতা হিসেবে দলের ভেতরে বাইরে প্রচার রয়েছে। তিনি ওই সময় ন্যাম ভবনে সংস্কারপন্থি এমপিদের নিয়ে বৈঠকও করেন। এছাড়া কে এম ওবায়দুর রহমান বিএনপি ছেড়ে জনতা দল গঠন করলে তিনিও ওই দলে যোগ দেন। তার মত একজনকে পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী প্রত্যয়নের দায়িত্ব দেওয়ায় কতটা যুক্তিসঙ্গত হয়েছে তা বোধগম্য নয়।
দলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ মো.শাহজাহান নোয়াখালি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বপালন করলেও নিজ জেলায় বিগত পাঁচ বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেননি। তার পছন্দের পাঁচজনকে নিয়ে পকেট কমিটি করে রেখেছেন। যিনি নিজ জেলার কমিটি করতে পারেননি র্দীঘ সময় ধরে। তিনি কিভাবে সারাদেশে পৌর নিবার্চনের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ নিবার্চনে দলের প্রার্থী প্রত্যয়ন করেন। তার নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিযোগকারীরা।
এবিষয়ে দলের নীতি নির্ধারণী ফোরামের এক নেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে মো. শাহজাহানের কাছে খোঁজ নেন। তিনি ভালো বলতে পারবেন।আস