সিসি ডেস্ক: হজরত মুহাম্মদ সা· এর দুধমাতা হজরত হালিমা রা· এর বাড়ি মক্কার তায়েফ নগরীতে অবস্থিত। ইসলাম প্রিয় মানুষের অনন্য আকর্ষণীয় স্থান। হুজুর সা· যেখানে শিশুকাল কাটিয়েছেন। বড় হয়েছেন যার দুধ পান করে। সেই সৌভাগ্যবান নারীর কবর জিয়ারত করা মুসলিমদের কাছে বড় ভাগ্যের।
বাড়িটি ঠিক তায়েফে নয়। তায়েফ থেকে আরো ৬০ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। জায়গাটি ওয়াদিয়ে হালিমা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তায়েফে তাপমাত্রা খুবই কম। মাত্র ১৫ থেকে ২০ সেলসিয়াস হবে। এখানে সব সময় এমন ঠান্ডাই থাকে।
মা হালিমা রা· এর বাড়ি পৌঁছার পথেই পড়ে হজরতে আলী রা· মসজিদ। এ অঞ্চলটি বিজয়ের পর হজরত আলী রা· এর বিচারালয় ছিল এ স্থানটিতেই। তিনি এখানেই বসেই বিচার করতেন। রাসূল সা· এখানে আসার পর নামাজও আদায় করেছেন। মসজিদটি আগের আদল রেখে আব্বাসীয় আমলে কিছুটা মেরামত করা হয়। এর পর আর সংস্ড়্গার হয়নি। মসজিদটিতে বর্তমানে প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। এখানে আর নামাজ আদায় হয় না। এটি কাটাতার দিয়ে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
এখান থেকে কিছুটা দূরে গেলেই আরেকটি ঐতিহাসিক স্থান পড়ে। হুজুর সা· তায়েফে আসার পর তাকে ইটের আঘাতে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। সেই স্থানটিও সংরড়্গণ করা হয়েছে। এর পাশেই নবীজির নামাজের পথে যে বুড়ি কাটা বিছিয়ে দিত তার বাড়ি। এগুলো এখনো পাথর দিয়ে সংরড়্গণ করে রাখা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো ১৪শ’ বছর পরেও কাটাযুক্ত বড়ই গাছটি এখনো অবিকল রয়েছে।
ওয়াদিয়ে হালিমার পুরোটাই উঁচু উঁচু পাহাড়। কোথাও কোথাও সমতল। দুয়েকটি বাড়ি দেখা যায়। হজরত হালিমা রা· এর বাড়ি পাহাড়ের একেবারে চূড়ায়। ছোট্ট একটি ঘর। ইট আর পাথরের তৈরি। ঘরের ভেতর দুটি বল্লম রয়েছে। একটিতে হুজুর সা· ও তার মা এবং অপরটিতে মা হালিমার স্বামী থাকতেন। বাড়িটির কিছু দূরেই বিশাল মাঠ। যেখানে হুজুর সা· ও তার দুধ ভাই মিলে ছাগল চড়াতেন। এখানেই হুজুর সা· এর সিনা চাক করা হয়েছিল, সে স্থানটি পাথর দিয়ে ঘেরাও করা আছে।
মা হালিমার বাড়ির পাশেই এখন কিছু বসতি গড়ে উঠেছে। যারা নবীজির নিঃশ্বাস নিয়ে ঘুমায় এখনো। এরা বাস্তবেই অনেক ভাগ্যবান। নবীজির স্মৃতিধন্য স্থানটিতে থাকতে পারছে। ঘুরতে পারছে। পবিত্র মাটির পরশ নিতে পারছে। এমন ভাগ্য কজন পায়।