শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর: দেশের অন্যান্য জেলার মত চাঁদপুরেও শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। আর প্রতিবছর এই শীতকে ঘিরে অসহায় ছিন্নমূল মানুষের পোহাতে হয় বোগান্তি। চাঁদপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, অগ্রাহায়নে শিতের কোন দেখা না মিল্লেও পৌষের শুরুতে জেঁকে বসেছে শীত। পৌষ মাসের শেষ সময় থেকে শুরু করে মাঘ মাসের পুরোর সময় শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। তবে জানুয়ারির মাসে ছোট থেকে বড় ধরনের শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে। পৌষ মাসের দিন গড়ানোর সাথে সাথে শীতের তীব্রতাও বাড়তে থাকবে। তারা জানান, দিনের বেলায় কিছু শীতের হাওয়া বইলেও রাতে তার তাপমাত্রা বেড়ে তীব্র শীতের আকার ধারন করে। তেব টান্ডা হাওয়া বইলেও বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা তাকছে না।
এদিকে প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বাভাবিক নিয়নে শীত আসলে ছিন্নমূল শহরবাসীর জীবনে নেমে আসে শাস্তি শরূপ কষ্ট নিয়ে আসে। ফুতপাতে থাকা এসব অসহায় ছিন্নমূল মানুষের শীতের আমেজ উপভোগ করার মত সাধ্য থাকে না। দিন শেষে রাত জখন গড়িয়ে আসে বাড়ে শীতের তীব্রতা। এতে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, শহরের বিভিন্ন স্থানের ফুটপাত এবং নদীতে থাকা ভাসমান মানুষের কষ্টের যেন শেষ নেই। তারা কোর রোকম ভাবে ছেড়া কাঁথা, চটের ব্যাগ ছেড়া কাপড় চোপর দিয়ে শীত নিবারনের ব্যবস্থা করে থাকে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে ছিন্নমূল মানুষকে।
ফুটপাতে থাকা এক অসহায় মহিলা জানায়, অনেক দিন ধরে রেলস্টেশনের ফুটপাতে থাকছি। দিনের বেলায় কোন রোকম ভাবে কেটে গেলেও রাতে আমাদের থাকা খুবই কষ্টের হয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত কোর সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা আমাদেরকে সাহয্য করতে আসেনি। প্রশাসন বা কোন সংস্থার পক্ষ থেকে আমাদেরকে শীত নিবারণের ব্যবস্থা করে দিলে আমরা এই কষ্টের হাত তেকে রক্ষা পেতাম।
অন্যদিকে শীতের সাথে তাল মিলিয়ে ঠান্ডা জনিত রোগের প্রভাবও বেড়ে চলেছে। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনিই সর্দি-কাশি, জ্বর, হাঁপানি ও নিউমোনিয়ার মতো রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ লোকেরা। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, শীতে রাস্তার ধুলাবালুর কারনে শ্বাসকষ্টের রোগীদের ভয়াবহতা বেশি থাকে। বছরের অন্য সময় থেকে শীতের মৌসুমে শিশুদের নিউমোনিয়া এবং বড়দের মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বর এবং হাঁপানির প্রকোপ বাড়ে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।