দিনাজপুর প্রতিনিধি: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার দেশে একটা অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা। তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন করেছিল এবং ১৪৬টি আসনে মাত্র ৫ ভাগ ভোট পেয়েছিল। তাই তাদের সরকার পরিচালনা করার কোন নৈতিক অধিকার নেই।
শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে দিনাজপুর শহরের ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড মোড়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থনে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে তড়িঘড়ি করে দলীয় প্রতীকে করানোর পিছনে সরকারের একটি দুরভিসন্ধি ছিল। সরকার মনে করেছিল ৫ জানুয়ারির মতো একটি নির্বাচন দিয়ে ধানের শীষকে পরাজিত করতে পারলে মানুষ মনে করবে যে নৌকার জনপ্রিয়তা অনেক।
তিনি বলেন, সরকার আস্থাহীনতায় ভুগছে। তাদের নিজেদের উপর কোন কনফিডেন্স নেই। তাই বিরোধী দলকে তারা নিশ্চিহœ করতে চায়। তিনি বলেন, গত এক মাসে আমাদের প্রায় ৬ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গত দুই বছরে ৫শ’র অধিক নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং ৩শ’র অধিক নেতাকর্মীকে গুম করে দেয়া হয়েছে। মানুষের স্বাধীনতা রুদ্ধ করা হয়েছে। এক কথায় এরা একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এক ধাপ পার হতে চাই। তাই এই নির্বাচনকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। দিনাজপুরে আমাদের জনপ্রিয় নেতা যিনি গত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে ধানের শীষ মার্কা দিয়েছেন। তাকে বিজয়ী করে আনতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেই রকম পরিবেশ তৈরী হয়েছিল বলেই আমরা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এবারে আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন দেখবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পৌর নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করবো ইণশাআল্লাহ।
পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব লুৎফর রহমান মিন্টু, মেয়র প্রার্থী বর্তমান সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুকুর চৌধুরী, সিনিয়র সহ- সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব রেজিনা ইসলাম, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মাহবুব আহম্মেদ, খালেকুজ্জামান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান উজ্জল প্রমিূখ।
পথসভায় জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মোকাররম হোসেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আখতারুজ্জামান জুয়েল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক হেলাল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক সাইফুর রাজ চৌধুরী, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. সোলায়মান মোল্লা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান চৌধুরী খোকা, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান, কৃষকদলের সভাপতি আলহাজ্ব আফতাব উদ্দীন আহমেমদ মন্ডল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক বখতিয়ার আহম্মেদ কচি, পৌর কৃষকদলের সভাপতি আলী আকবর, যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম মুন্নাসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল, শ্রমিকদল, মহিলাদল, তাঁতীদল ও সকল অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মির্জা ফখরুল দিনাজপুরে এসে পৌছঁলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানায়। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও হতে দিনাজপুরে আসার পথে বীরগঞ্জে পৃথক পথসভায় বক্তব্য রাখেন। পরে তিনি ফুলবাড়ী ও বিরামপুর হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ফুলবাড়ী ও বিরামপুরে পৃথক পথসভায় বক্তব্য রাখেন।