খেলাধুলা ডেস্ক: সব ঠিক থাকলে আজই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হবে শুভাগত হোম চৌধুরী ও নুরুল হাসানের (সোহান)। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের একাদশের বাইরে থাকছেন সম্ভবত ইমরুল কায়েস, আরাফাত সানি ও আবু হায়দার।
জাতীয় দলের হয়ে ৭টি টেস্ট ও ৪টি ওয়ানডে খেলে ফেললেও এখনো টি-টোয়েন্টি খেলা হয়নি শুভাগতর। আর ২২ বছর বয়সী সোহান তো একেবারেই নতুন মুখ। নিজ শহর খুলনায় অভিষেক হচ্ছে বলে স্বাভাবিকভাবেই রোমাঞ্চিত এই তরুণ। খুলনার দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রেও থাকবেন তিনি। বর্তমান বাংলাদেশ দলে অবশ্য খুলনা বিভাগের ক্রিকেটারই বেশি।
অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান ছাড়া সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান, ইমরুল কায়েস ও আল আমিনের বাড়িও খুলনা বিভাগে। জাতীয় দলে অভিষেকের পর খুলনার মাঠে আজই প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবেন পেসার মুস্তাফিজ। ব্যাটসম্যান সৌম্যর আন্তর্জাতিক অভিষেক ঢাকায় হলেও গত বছর এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজের প্রথম টেস্টটা তিনিও খেলেছিলেন শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে।
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে চার টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে আজ বিকেল ৩টায়। ম্যাচের আগে খুলনার উইকেট নিয়ে সামান্য হলেও চিন্তার রেখা ফুটে উঠছে মাঠ সংশ্লিষ্টদের কপালে। কারণ জিম্বাবুয়ে সিরিজ খুলনায় হবে, এই সিদ্ধান্ত হয়েছে অনেক দেরিতে এবং এরপর উইকেট প্রস্তুতির সময় পাওয়া গেছে খুব কমই।
সূত্র জানিয়েছে, সিলেটকে বাদ দিয়ে যেদিন খুলনায় জিম্বাবুয়ে সিরিজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হলো, তার মাত্র দু-এক দিন আগে পরিচর্যার অংশ হিসেবে উইকেটের ওপর হালকা মাটি ছিটিয়ে টপ ড্রেসিং করা হয়েছে। এটা সাধারণত লম্বা সময় খেলা না থাকলে করা হয়। কিন্তু খেলা হওয়ার সিদ্ধান্ত জেনে গ্রাউন্ডসম্যানরাই তড়িঘড়ি করে প্রস্তুত করেছেন উইকেট। চট্টগ্রামে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মাঠ প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকা কিউরেটর জাহিদ রেজাও খুলনায় এসে পৌঁছেছেন গতকাল সকালে। উইকেটের সম্ভাব্য চরিত্র সম্পর্কে তিনিও তাই পরিষ্কার ধারণা দিতে পারেননি।
তবে এ ধরনের উইকেটে বাউন্স অনেক সময় স্বাভাবিক থাকে না বলে জানালেন মাঠ সংশ্লিষ্টদের একজন। আজও সেটা হলে অবাক হবেন না তিনি। সকালে উইকেট দেখার পর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, ‘এ উইকেটে আগে ব্যাট করা দল ১৪০-৫০ রান করলেই আমরা সন্তুষ্ট থাকব। তবে সারা দিন ভালো রোদ থাকলে এখানে ১৬০-৭০ রান তাড়া করেও জেতা সম্ভব হবে বলে আমার ধারণা।’
খুলনার দর্শকদেরও সেটাই চাওয়া। ব্যাট-বলের তুমুল লড়াই না হলে টি-টোয়েন্টি দেখে মজা কীসের! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের গ্যালারি সব সময়ই পূর্ণ থাকে। আজও সেরকমই আশা আয়োজকদের। সে জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকছে মাঠে। সিরিজের নিরাপত্তা প্রধানের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আলী জানালেন, ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচের দিন সাধারণত মাঠে তিন শ পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। এই সিরিজের ম্যাচগুলোতে থাকবেন ৫০০ জন করে পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া দুই দলের মাঠ-হোটেলে আসা যাওয়ার পথেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে। টিম বাস আসা-যাওয়ার সময় রাস্তায় অন্য যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।’
প্রথম আলো