• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন |

লজ্জার সিরিজে বছর শুরু বাংলাদেশের

খেলাধুলা ডেস্ক : ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ২০১৫ সালটি সাফল্যে রাঙিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ২০১৬ সালের প্রথম সিরিজেই আকাশে ওড়া দলটি একেবারে মাটিতে নেমে এল। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে চতুর্থ ও শেষ টোয়েন্টি২০ ম্যাচে ১৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আর এ জয়ে সিরিজ ড্র করেছে জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশে আসার আগে আফগানিস্তানের কাছে সিরিজ হেরে বিপর্যস্ত ছিল জিম্বাবুয়ে। টোয়েন্টি২০ ক্রিকেটে ১৪ নম্বরে থাকা দলটিকে ‘দুর্বলতার’ নিক্তিতে মেপেই যেন বাংলাদেশ চার ম্যাচের সিরিজটিকে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে নিয়েছিল।

টোয়েন্টি২০ ক্রিকেটে এমনিতে বাংলাদেশ দুর্বল দল, সে দুর্বলতা কাটাতে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথেই হেঁটেছিল স্বাগতিকরা। আর ভেন্যু ছিল বাংলাদেশের দুর্গ খুলনা। যে মাঠে এ সিরিজের আগে হারের কোনো রেকর্ড নেই বাংলাদেশের।

প্রথম দুই ম্যাচে জিতে কক্ষপথেই ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচই যেন নানা বিপত্তি নিয়ে হাজির হয়েছিল। রান নিতে গিয়ে মুশফিক হ্যামেস্ট্রিং ইনজুরির কারণে সিরিজ থেকেই ছিটকে যান। বল করতে গিয়ে হাতে আঘাত পেয়ে ওভার শেষ করতে না পেরেই মাঠ ছাড়েন মুস্তাফিজ, পরের দুই ম্যাচে তাকে তাই দর্শক হয়েই থাকতে হয়েছে।

দলের এই দুই নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি বাংলাদেশকে দুর্বল করবে এটা সহজেই অনুমেয়। সে সুযোগই কাজে লাগানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন জিম্বাবুয়ে কোচ ডেভ হোয়াটমোর। তিনি রাখঢাক না রেখেই তৃতীয় ম্যাচের আগে বলে দিয়েছিলেন, জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ কোচ হাথুরোসিংহে যে একাদশ মাঠে নামান তা কেবল হোয়াটমোর না, ক্রিকেট বোঝেন এমন যে কাউকেই অবাক করার কথা। দলের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকে রাখেন দলের বাইরে। চারজনকে অভিষেকের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দলে আনেন পাঁচ পরিবর্তন। ফল যা হওয়ার তাই হলো, দলকে জেতানোর মতো কাঁধ প্রসারিত করতে পারেননি কেউই। ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে জিম্বাবুয়ে সেই ম্যাচেই হুঙ্কার দিয়েছিল, সিরিজে সমতা নিয়েই দেশে ফিরবে তারা।

অন্যদিকে পরিবর্তনের তোড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটেই যেন ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দেয়। খোদ বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন তামিম, তাসকিন, আরাফাত সানিদের খেলাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন কোচকে। চতুর্থ ম্যাচে তাদের প্রত্যেককেই মাঠে নামান হাথুরুসিংহে। কিন্তু ফল কিছুই হয়নি, জয়ের কক্ষপথে ফেরেনি বাংলাদেশ। খুলনার দর্শকদের সিরিজ ড্রয়ের সান্ত্বনা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে।

খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে শেষ টোয়েন্টি২০ ম্যাচটি শুরু হয় শুক্রবার বিকেল ৩টায়। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সফরকারীরা শুরুটা ভালো করতে পারেনি। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই জিম্বাবুয়ের ওপেনার সিবান্দাকে আউট করে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। কিন্তু এরপর পুরো ম্যাচজুড়েই আধিপত্য ছিল জিম্বাবুয়ের। সাবলীল ব্যাটিং করা ওপেনার মাসাকাদজার বিরুদ্ধে যেন অকার্যকর ছিল বাংলাদেশের পুরো বোলিং লাইন। ৯৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে নির্ধারিত ২০ ওভারে দলকে ১৮০ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেন তিনি।

প্রথম ওভারে সিবান্দা আউট হওয়ার পর মাসাকাদজা জুটি বাঁধেন মুতুম্বানির সাথে, বড় সংগ্রহের দিকে এগোনো এ জুটি ১১তম ওভারে ভাঙেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা আবু হায়দার রনি। ১০.১ ওভারে জিম্বাবুয়ের ৮৪ রানে মুতুম্বানিকে বোল্ড আউট করেন তিনি। তবে মুতুম্বানি ৩২ রানে আউট হলেও মাসাকাদজা দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যান। এবার তিনি জুটি বাঁধেন ওয়ালারের সাথে। ৩৬ রান করে ওয়ালার তাসকিনের শিকার হওয়ার পর সিকান্দার রাজাও আউট হন সাকিবের বলে। তবে ৫৮ বলে ৯৩ রানে অপরাজিত ছিলেন মাসাকাদজা। ৮ চার ও ৫ ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে।

২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশকে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে ১৮১ রান তাড়া করতে শুরুটা করেছিল আক্রমণাত্মক। কিন্তু ১ ওভারের বেশি তা স্থায়ী হয়নি। ১.২ ওভারে দলীয় ১২ রানে মাদজিবার বলে আউট হয়েছেন ওপেনার সৌম্য সরকার। আউট হওয়ার আগে ১ চার ও ১ ছক্কায় ৭ বলে তিনি ১১ রান করেছেন। এরপর টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা কেবল আসা-যাওয়ার মিছিল করেছেন।

পরে একই ওভারের শেষ বলে আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল বোল্ড হয়েছেন ১ রানে। পরের ওভারের প্রথম বলেই চিসিরোর বলে ১ রানে আউট হয়েছেন সাব্বির রহমান। ৩ বল পরেই ৪ রানে বোল্ড হয়েছেন সাকিব আল হাসান। তখন ২.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ১৭ রান।

১৭ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ ইমরুল কায়েস ও মাহমুদুল্লাহর জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও প্রতিরোধ স্থায়ী হয়নি। দলীয় ৫৩ রানে ইমরুল কায়েস ব্যক্তিগত ১৮ রানে সিকান্দার রাজার বলে আউট হন।

৫৩ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ আশা জাগিয়েছিল নবাগত নুরুল হাসান ও মাহমুদুল্লাহর ব্যাটে। কিন্তু ১৩.২ ওভারে ১৫ রানে সিকান্দার রাজার বলে নুরুল হাসান আউট হয়ে যান, দলের সংগ্রহ তখন ৬ উইকেটে ১১০ রান। তবে ইনিংসের শেষদিকে আবার মাশরাফির মারমুখী ব্যাটিংয়ে জয়ের ক্ষীণ আশা জেগে ওঠে। কিন্তু ১৫.৫ ওভারে ১৩৪ রানে মাহমুদুল্লাহ সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে গেলে পরাজয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। মাহমুদুল্লাহ চিসিরোর বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৪১ বলে ৫৪ রান করেন। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি।

পরে ১৭.১ ওভারে দলীয় ১৩৮ রানে আউট হয়ে যান অধিনায়ক মাশরাফিও, জোঙ্গউই-এর বলে আউট হওয়ার আগে ১ চার ও ২ ছক্কায় ১২ বলে ২২ রান করেছেন তিনি। এছাড়া পেসার আবু হায়দার রনি ১০ বলে ১৪ ও স্পিনার আরাফাত সানি ৫ বলে ১০ রান করে আউট হয়েছেন। আর বাংলাদেশ ১৯ ওভারেই ১৬২ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয়ে যায়। ফলে ১৮ রানের জয় পেয়ে সিরিজে ২-২ সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জিম্বাবুয়ে। আর পুরো সিরিজেই অসাধারণ ব্যাটিং করা মাসাকাদজা ম্যাচ ও সিরিজ সেরা হয়েছেন।

এ সিরিজের পর ভিন্ন কারণে স্বস্তি পেতে পারে ক্রিকেটের নবীন সদস্য আফগানিস্তান। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের নবম দলটি এখন বলতেই পারে যে, যোগ্য দল হিসেবেই তারা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ