ঢাকা : নৌমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের আহ্বায়ক শাজাহান খান বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিরা যে গণহত্যা চালিয়েছিল তাদের বিচার করার কথা বলেছিল পাকিস্তান সরকার। কিন্তু পাকিস্তান তা করেনি। তারা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তাই ২০০ জন নয়, যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা ২ হাজারও হয়, তাদের বিচার করার জন্য সরকারের কাছে আনুরোধ জানাচ্ছি।’
বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন আয়োজিত এক সমাবেশে এ দাবি জানান তিনি।
শাজাহান খান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সরকার বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের ওপর নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল। আমরা তখন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছিলাম। পাকিস্তান সরকার তাদের বিচার করবে, এমন চুক্তি করে তাদের পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেয়। তারা (পাকিস্তান) চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।’
এ সময় তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর ১০ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে ধরেন। পরে স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি পেশ করতে যান ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শাজাহান খান।
১০ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের বিচারে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি না, তা পুনর্নিরীক্ষা, মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা ও তাদের পরিবারে নাগরিকত্ব বাতিলের বিধান করা। ‘জেনোসাইড ডিনায়াল ল’ এর আদলে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী একটি আইন প্রণয়ন। জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা। ৭১-এর ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করা।’
সমাবেশ শেষে পাকিস্তানি ২০০ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদির গামা, খুশি কবির প্রমুখ।