সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েও মামলার শিকার হতে হয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক এই কার্ড ভালোভাবে নেয়নি দেশের জনগণ। আওয়ামী লীগ বিরোধী সেন্টিমেন্ট খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য লুফে নেবে বলে ধারণা করা হলেও আদতে তা হয়নি। দলের ভিতরে বাইরে পড়তে হয়েছে সমালোচনায়। এর আগে, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য বিবৃতি বাংলাদেশের প্রচার প্রকাশে রয়েছে সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকা বিএনপি এখন বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কিন্তু তাতে বিশাল জয়ের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। সরকারি দল ও স্থানীয় প্রশাসনের চাপে পড়ে মাঠে নামতে পারছেন না বিএনপির নেতা-কর্মীরা। চোখের সামনে প্রার্থীরা হেরে যাচ্ছেন, কিন্তু কিছুই করার থাকছে না বিএনপি নেতৃত্বের। এর মধ্যেই নানান দিক থেকে দল ও জোট ভাঙার ষড়যন্ত্রের কথা শুনতে পাচ্ছেন দলীয় প্রধান। কিন্তু দলীয় শীর্ষ নেতাদের বৈঠক করা যাচ্ছে না নিয়মিত। একটা জনসভা করতে গেলেও তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসনের দিকে। সর্বশেষ ছাত্রদলের রেকর্ড আকৃতির কমিটি দেওয়ার পরও অঙ্গসংগঠনটির একটি গ্রুপের কর্মীরা দিয়েছে কার্যালয়ে আগুন। কথিত ‘আসল বিএনপি’র নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখলের ঘোষণা মানসিক পীড়ায় ভোগাচ্ছে সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের। কেন্দ্রীয়ভাবে ক্ষমতায় ফিরতে বার বার বিদেশিদের ওপর আস্থা রেখে ব্যর্থ হওয়ার পরও সেই পথেই চলা হচ্ছে। সরকারের নতুন নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে পারেনি বিএনপির লবিংয়ের বিদেশি রাষ্ট্রগুলো। উল্টো সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন নতুন ধরনের সহযোগিতার বন্ধন ও প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হয়েছেন তারা। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কূটনীতিতে ভুল করা বিএনপি এখন বারবার চেষ্টা করেছে সম্পর্কোন্নয়নের। মোদি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন ধরনের হবে বলে আশা করা হলেও তাতে পড়েছে গুড়ে বালি। উল্টো বিজেপির অমিত শাহের সঙ্গে টেলিফোনালাপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে নেতিবাচক অবস্থার। শেষ পর্যন্ত এক ধর্মীয় গুরুর মাধ্যমে মোদির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টার কথাও শোনা গেছে। তাতেও সফলতা আসেনি। বরং এর আগেই দলীয় কূটনৈতিক দায়িত্বে থাকাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ভাঙন। বিএনপির সমর্থকরা বলছেন, সবকিছু মিলিয়ে ঢাকায় পারিবারিক সঙ্গহীন অবস্থায় থাকা বেগম খালেদা জিয়ার সময়টা বেশ কঠিনই যাচ্ছে। শারীরিক অসুস্থতাও ভোগাচ্ছে বারবার। যদিও তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, দুই বারের বিরোধীদলীয় নেত্রী ও সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার সমন্বয় ঘটিয়ে এই কঠিন পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাবেন প্রত্যাশা করছেন বিএনপির লাখো সমর্থক।