সিসি ডেস্ক: ভাষা দিবস উপলক্ষে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে নিয়ে এরশাদের রংপুর আসা এবং সার্কিট হাউজে তাঁকে পাশে নিয়ে নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সাথে এরশাদের কথা বলা নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন এরশাদের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী হামলায় আহত চিকিৎসাধীন রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব এসএম ইয়াসির। স্টাটাসটির সাথে তিনি তার মাথায় ২৮টি সেলাই দেয়া ছবিও পোষ্ট করেছেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি তাঁর ওপর দুই দুইবার হামলার জন্য সরাসরি দায়ি করেছেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীকে। তুলে ধরেছেন জাতীয় ছাত্রসমাজের সাবেক সভাপতি হিরুর খুনের বিষয়েও। এ স্ট্যাটাস নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় পার্টির মধ্যে।
ইয়াসিরের শুক্রবার দেয়া স্ট্যাটাসটিতে হুবহু বক্তব্য হলো ‘মশিউর রহমান রাঙা পরপর দুই, দুই, বার আমার উপর হামলা করিয়েছেন, সে আজ স্যারের সাথে একই বিমানে রংপুর আসলেন, স্যার আবার তার সাথে সাকি’ট হাউজে মতবিনিময় করলেন। ১৫/০১/২০১৬ শুক্রবার আমার বাবার কবর জিয়ারত করে বের হওয়ার সাথে সাথে দ্বিতীয় বার আমার উপর হামলা করা হয়েছিল । সেই হামলায় আমার রক্ত লেগেছে সাত ব্যাগ, আমার মাথায় সেলাই পরেছে ২৮ টি, মাথা যত দুর কেটেছে ততোদুর মাথার খুলি ভেঙে উঠে গিয়েছিল, এই প্রথম এই রকম হামলায় আমি এক মাত্র ব্যক্তি যাকে মৃত্যুর হাত থেকে আল্লাহু তালা (আল্লাহ তায়ালা) আমাকে নিজে ফিরিয়ে দিয়েছে । ডাঃ সেই সময় আমার পরিবারের এবং মোস্তফা ভাইসহ হাজার হাজার উপস্থিত মানুষ সবাইকে বলেছিলেন আমার বাচার সম্ভাবনা কোন অবস্থাতেই নেই যদি আল্লাহু তালা (আল্লাহ তায়ালা) আমাকে বাচিয়ে দেন তাহলে সম্ভব । আমি যদি মৃত্যু বরন করতাম তা হলেও এটাই হতো । যা সাপার(সাফার) করার আমার পরিবারের লোকেরা করতেন। জাতীয় পার্টি যারা করেন তারা হয়তো সাতদিন কিংবা এক মাস আমার কথা বলতেন তারপর থেমে যেতেন বা যাবেন এটাই বাস্তবতা ।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইয়াসির আরও বলেন ‘যেমন টি হয়েছে আমার অতি প্রিয় ছোট্ট ভাই সৈয়দ মিজানুর রহমান হিমুর বেলায়। জাতীয় পার্টি আমরা যারা করেছি । জাতীয় পার্টির জন্য কোন কর্মী রক্ত দিলে এই ভাবে কর্মীদের মূল্যায়ন এবং কর্মীদের অভিনন্দিত করা হয় । আমার জন্য রংপুরের এবং অনেক জায়গাতে মসজিদে এবং মাদ্রাসায় দোয়া হয়েছে, অনেক মানুষ দোয়া করেছেন। যারা আমাকে রক্ত দিয়েছেন তাদের রক্তের বাধনে আমি ও আমার পরিবারের সবাই সারাজীবন আপনাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবো । আমার প্রিয় রংপুরের সকল স্তরের মানুষ যারা আমার জন্য দোয়া ও আমার উপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য হরতাল করেছেন ,সেই হরতালে কোন ধরনের রিস্কা, অটোরিকশা, টেম্পু, বাইসাইকেল, যানবাহ (প্রজন্ম পর্যন্ত) চলাচল করেনি কাঁচাবাজার, খিলিপান দোকান হোটেল রেস্তোরা ,ঔষুধের দোকানসহ সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। আমি আমার পরিবারের সবাই সারাজীবন তাদের সরন(স্মরন) করবো যারা আমার হামলার প্রতিবাদ করেছেন লিখনির মাধ্যমে সাংবাদিক ভাই, বোন এবং আমার ফেছবুক বন্ধু্দরেসহ আমার জন্য প্রতিবাদ করেছেন । আমি আমার পরিবারের সবাই আপনাদের সবার প্রতি সবসময়ের জন্য দোয়া এবং শ্রদ্ধা রইল। হাসান তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ পোষ্টটি দিয়ে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য। আমি পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া প্রজন্ত(পর্যন্ত) আমাকে ডাঃ ফেছবুকে বসতে নিষেধ করেছেন তারপরেও আমি মাঝেমাঝে দেখি কে কি পোষ্ট দিয়েছে সেটি দেখি এবং লাইক দেই কমেন্ট করিনা।
স্ট্যাটাসে আরও বলা হয়, ‘এই পোষ্টটি দেখলাম অনেকে কমেন্ট করেছেন স্যারের হয়তো কোন ব্যাপার আছে সে কারনে স্যার তাকে (রাঙ্গাকে) নিয়ে এসেছে, আমরা জাতীয় পার্টি করি তাই এই ভাবে বলতে পারি। হিমুকে খুন করা হয়েছে, হিমু কিন্তু সাধারণ কর্মি ছিলো না জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক কেন্দীয় সভাপতি ছিলেন তার ব্যাপারে আমাদের কোন জাতীয় পার্টি থেকে প্রতিবাদ করা হয়নি । জাতীয় পার্টি কোন নেতাকর্মী কে যদি কেউ মেরে ফেললে তখনও প্রতিবাদ হবে না, এই ভাবে আপনারা বলবেন স্যারের কোন সমস্যা আছে প্রতিবাদ করা যাবেন ।’
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রথমবারের মতো ২১ ফ্রেব্রুয়ারী উপলক্ষে রংপুরে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার জন্য রংপুর আসেন গত শুক্রবার। ওইদিন তাঁর সাথে তার ভাই কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের ছাড়াও একই বিমানে রংপুর আসেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নেমে সড়ক পথে পল্লী নিবাসে যাওয়ার কর্মসূচি থাকলেও তিনি সোজা আসেন সার্কিট হাউজে। এসময় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গাসহ এরশাদ গার্ড অব অনার গ্রহন করেন এবং সার্কিট হাউজের হলরুমে কথা বলেন নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সাথে। এসময় এরশাদের ডান পাশে প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা ও বাম পাশে ছিলেন কো চেয়ারম্যানের আশপাশ থেকে অনেক দুরে ছিলেন রংপুর জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতারা। প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা সমর্থিত নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ছিল পুরো সার্কিট হাউজ জুড়ে। পরে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার সময় এরশাদের সাথে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা ছিলেন না। তার সাথে ছিলেন কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, জেলা আহবায়ক মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, মহানগর সদস্য সচিব মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা সদস্য সচিব আসিফ শাহরিয়ার।
গত ১৭ জানুয়ারী রংপুর সফরে এসে সন্ধায় পাটি কার্যালয়ে এক সংবাদ ছোটভাই জিএম কাদেরকে জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান এবং নিজের মৃত্যুর পর পার্টির প্রধান করার ঘোষণা দেন। পরের দিন ঢাকায় গিয়ে তিনি জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুকে অপসরাণ করে রুহুল আমীন হাওলাদারকে মহাসচিব ঘোষণা করেন। এরপর এ নিয়ে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে প্রেসিডিয়ামের কয়েকজন সদস্য রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করলে জাতীয় পার্টি দ্বিখন্ডিত হয়। রওশনের সাথে থাকেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা। জাতীয় পার্টি যৌথ সভায়ও যান নি রওশন , রাঙ্গাসহ পার্টির ৩২ জন এমপি।
এ ঘটনার পর এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীকে সাথে নিয়ে বিমানযোগে রংপুর আসা এবং সার্কিট হাউজে একসাথে নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সাথে কথা বলায় এরশাদকে নিয়ে এই স্ট্যাটাস দেন মহানগর সদস্য সচিব এসএম ইয়াসির। গত ১৫ জানুয়ারী নগরীর মুন্সিপাড়া কবর জিয়ারত করে বের হওয়ার সাথে সাথে দ্বিতীয় বারের মতো তার ওপর হামলা হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে এখনও চিকিৎসাধীন তিনি। এর আগে জুম্মাপাড়ায় নিজ বাসার সামনেও হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি। ইয়াসির তার ওপর হামলার জন্য প্রতিমন্ত্রীকে দায়ী করে সরাসরি স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।