খেলাধুলা ডেস্ক: এশিয়া কাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হয়ে ১৪ রানের দুর্দান্ত জয় পায় শ্রীলঙ্কা।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে গেরে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রানের পুঁজি সংগ্রহ করে লঙ্কানরা।
জবাবে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান সংগ্রহ করে আমিরাত। ফলে আমিরাতের বিপক্ষে ১৪ রানের জয় দিয়েই এশিয়া কাপে শুভ সূচনা করে শ্রীলঙ্কা।
এদিকে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কার শুরুটা অবশ্যই ভালোই ছিল। উদ্বোধনী জুটিতে ৬৮ রান আসে তাদের। লঙ্কান দুই তিলকরত্নে দিলশান ও দিনেশ চান্দিমাল শাসন করছিলেন আমিরাতের বোলারদের।
আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদের আঘাতে লঙ্কান শাসনের অবসান ঘটে। ব্যক্তিগত ২৭ রানে বিদায় নেন দিলশান।
২৮ বলের ইনিংসটি চারটি বাউন্ডারিতে সমৃদ্ধ। কিন্তু দুর্দান্ত ফর্মে থাকা চান্দিমাল খুব সহজেই বিদায় নেয়ার নন। ফিফটি করেই মাঠ ছেড়েছেন।
৩৯ বলে সাতটি চার ও একটি ছক্কায় মূল্যবান ইনিংসটি সাজান শ্রীলঙ্কার এই উইকেটরক্ষক। এটাই লঙ্কানদের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
এরপর আমিরাতের আমজাদ-নাভিদদের বোলিং তাণ্ডবে একে একে বিদায় নেন শ্রীবর্ধনা (৮), ম্যাথুস (৬) ও জয়সুরিয় (১০)।
বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আমিরাতের সেরা বোলার আমজাদ। ২১ রান খরচায় দুটি উইকেট নেন মোহাম্মদ শাহজাদ। দুটি উইকেট দখলে নেন আমিরাতের আরেক পেসার মোহাম্মদ নাভিদ। অলরাউন্ডার রোহান মোস্তফা ১৭ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন একটি উইকেট।
১৩০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই উইকেট হারায় আমিরাত। প্রথম ওভারেই আমিরাতের দুই ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। আমিরাতের স্কোরশিটে কোনো রান যোগ না হতেই দারুণ ফর্মে থাকা রোহান মোস্তফাকে এলবিডল্ডিউর ফাঁদে ফেলেন মালিঙ্গা।
কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোহাম্মদ শাহজাদকেও (১) বোল্ড করেন তিনি। বল হাতে লঙ্কান অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গ দেন নুয়ান কুলাসেকারা।
বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। ২৫ রানে বোল্ড করেন তিনি। বল হাতে লঙ্কান অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গ দেন নুয়ান কুলাসেকারা।
একে একে সাজঘরে ফেরান মোহাম্মদ কালিম (৭) ও মোহাম্মদ উসমানকে (৬)। পঞ্চম উইকেটে ২২ রান করে আমিরাতকে ম্যাচে ফেরান সাইমন আনোয়ার ও স্বপ্নিল পাতিল।
সাইমন আনোয়ার ব্যক্তিগত ১৩ রানে হেরাথের শিকার হলে বিপদে পড়ে আমিরাত। সপ্তম উইকেটে অধিনায়ক আমজাদ জাভেদকে নিয়ে ৩৮ রানের জুটি গড়ে ফের ম্যাচের হাল ধরেন স্বপ্নিল।
কিন্তু দলীয় ৮৫ রানে মালিঙ্গার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে স্বপ্নিল (৩৭) সাজঘরে ফিরলে ম্যাচ ফসকে যায় আমিরাতের হাত থেকে। অধিনায়ক জাভেদও বেশিক্ষণ থাকলেন না ক্রিজে। তার ব্যক্তিগত ইনিংসের যবনিকাপাত ঘটে ১৩ রানে।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ২৬ রানের বিনিময়ে চার উইকেট লাভ করেন লাসিথ মালিঙ্গা। এছাড়া কুলাসেকারা তিন এবং রঙ্গনা হেরাথ দুইটি উইকেট তুলে নেন।