• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়

টাইগারখেলাধুলা ডেস্ক: ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়ে দাপট দেখিয়ে এশিয়া কাপে দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

আগে ব্যাটিং করে ৭ উইকেটে ১৪৭ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ। জবাবে পেস ও স্পিনারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শ্রীলঙ্কাকে ২৩ রানে হারায় বাংলাদেশ। বোলারদের দাপটে ১২৪ রানে থেমে যায় এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এর আগে ৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেললেও একটিতে জয় পায়নি বাংলাদেশ। ৪ ম্যাচের মধ্যে ২টি খেলেছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, ২০০৭ ও ২০১২ সালে। বাকি ২টি খেলেছিল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। জয়হীন থাকা বাংলাদেশ নিজেদের সবচেয়ে পয়মন্ত ভেন্যু মিরপুরে এসে লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়ের স্বাদ পেল।

স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরুতেই লড়াকু বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে দিনেশ চান্দিমালকে ফিরিয়ে দেওয়ার সূবর্ণ সুযোগ তৈরী করেছিল তাসকিন আহমেদ। কিন্তু দ্বিতীয় স্লিপে থাকা সৌম্য ক্যাচটি ছেড়ে দিয়ে যেন ম্যাচটি ফসকে দিলেন! কিন্তু না, সেই সৌম্যর হাত ধরেই সঠিক পথে আসে বাংলাদেশ। সাকিবের প্রথম ওভারের প্রথম বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ উঠিয়ে দেন দিলশান। পিছনে দৌড়ে ড্রাইভ দিয়ে সৌম্য ক্যাচ তালুবন্দি করতে ক্রিকেটপ্রেমিদের উচ্ছ্বাসে ভাসান।

এরপর ১১তম ওভার পর্যন্ত চলে লঙ্কানদের দাপট। শূন্য রানে জীবন পাওয়া দিনেশ চান্দিমাল ও সিহান জয়াসুরিয়া ৭৫ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ৭৬ রানে এ জুটি ভাঙেন স্পিনার মাহমুদউল্লাহ। ডিপ পয়েন্টে চান্দিমালের (৩৭) ক্যাচটি নেন তাসকিন আহমেদ। এরপর শুধু টাইগার গর্জন। সাকিব, মুস্তাফিজ, মাশরাফিদের বোলিং তোপে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি সিংহের দল।

১০.২ ওভারে বাউন্ডারি পাওয়া লঙ্কানদের পরবর্তী বাউন্ডারি পেতে ১৭.৩ ওভার পর্যন্ত। অর্থ্যাৎ ৪২ বলে কোনো বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেনি লঙ্কানরা। টি-টোয়েন্টি যুগে বিস্তৃত এ পার্থক্য ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয় তা আরেকবার প্রমাণ পেল। শেষ ওভারে ৩২ রানের প্রয়োজনে ব্যাটিং করে লঙ্কানরা মাত্র ৮ রান করতে সক্ষম হয়। তাতেই জয় নিশ্চিত বাংলাদেশের।

টাইগারদের সেরা বোলার আল-আমিন হোসেন। ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেন ডানহাতি এ পেসার। ২টি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। ১টি করে উইকেট পান মুস্তাফিজুর রহমান, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

নিজেদের দিনে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশের পুঁজি ৭ উইকেটে ১৪৭। যাতে সাব্বির রহমানের একার রান ৮০। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাকিবের রান ৩২। কার্যকরী ইনিংস খেলা মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ২৩ রানে। ইনিংসের শেষের গল্পটা রোমাঞ্চকর হলেও শুরুটা ছিল একেবারেই ব্যর্থ। ২ রান তুলতেই ২ উইকেট নেই বাংলাদেশের। দুই ওপেনার মোহাম্মদ মিথুন (০) ও সৌম্য সরকার (০) কিছু বোঝার আগেই সাজঘরে।

তিনে নামা সাব্বির ছিলেন একেবারেই নির্ভার। চতুর্থ ওভারে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৮ রান তুলে যেভাবে ব্যাটিংয়ের শুরু করেন তা ছিল এক কথায় অসাধারণ। কিন্তু পঞ্চম ওভারে বাংলাদেশ শিবির আরেকটি উইকেট হারায়। ভুল বোঝোবুঝিতে মুশফিকুর রহিম (৪) সাজঘরে ফিরেন।

এরপরই সাব্বির আর সাকিব শো। অবশ্য সাকিবকে একটু আড়ালেই রাখতে হবে। দুজন ১১.১ ওভারে ৮২ রান জমা করেন যেখানে সাব্বিরের রান ৫২ ও সাকিবের ২২। তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৮০ রানে সাব্বির যখন আউট হন তখন বাংলাদেশের রান ১০৮। বলাবাহুল্য সাব্বিরের একক আধিপত্যে স্বরূপে বাংলাদেশ। ১৪৮.১৪ গড়ে ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি খেলে প্রায় ২৩ হাজার দর্শকের সামনে মাথা উঠিয়ে মাঠ ছাড়েন।

এরপর রান খরায় থাকা সাকিব স্কোরবোর্ডে দ্রুত কিছু রান যোগ করেন। কিন্তু চামিরার বলে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। ৩৪ বলে ৩২ রানে তার ইনিংসটি সেখানেই থেমে যায়। শেষ দিকে মিরপুরের দর্শকরা মেতে উঠে মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং ঝলকে। ১২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় দ্রুত ২৩ রান যোগ করেন যা বাংলাদেশের স্কোরকে দেড়শ’র কাছাকাছি নিয়ে যায়।

শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার পেসার দুসমান্তা চামিরা। ৩০ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। একটি করে উইকেট নেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও নুয়ান কুলাসেকারা।

ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন সাব্বির রহমান।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ