ঢাকা: আলোচিত রাডার ক্রয় দুর্নীতি মামলায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছেন তার আইনজবীরা।
বৃহস্পতিবার এরশাদের পক্ষে তার আইনজীবী শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম আংশিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
এরপর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা আগামী ১৯ এপ্রিল অবশিষ্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
মামলাটি এর আগে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন ছিল। ২০১৩ সালের ১১ জুন যুক্তিতর্কের শুনানি পর্যায়ে ওই আদালতের বিচারক বিব্রতবোধ করেন। এরপরই মহানগর দায়রা জজ এ মামলার বিচারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরাশাদের বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলাও ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষনার জন্য দিন ধার্য হয়েছিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ফের তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। ফলে এর বিচার ঝুলে যায়।
প্রায় ৩২ বছর ধরে চলমান রাডার ক্রয়ে দুর্নীতির এই মামলায় ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ওই বছর ১৫ মে আত্মপক্ষ শুনানিতে এরশাদসহ সব আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবী করেন।
নির্দোষ দাবী করা অপর দুই আসামি হলেন- সাবেক সহকারী বিমানবাহিনীর প্রধান সুলতান মাহমুদ ও মমতাজ উদ্দিন আহমদ। মামলার অপর আসামি ইউনাইটেড ট্রের্ডাস লিমিটেডের পরিচালক একেএম মুসা মামলার শুরু থেকে পলাতক রয়েছেন।
১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো এ মামলা দায়েরের পর ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট এরশাদসহ আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মামলাটি সুপ্রীম কোর্টের আদেশে স্থগিত ছিল। মামলার ১৮ বছর পর ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট শুরু হয় বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ।
আসামিরা অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়ে ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানির অত্যাধুনিক রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিং কোম্পানির রাডার ক্রয় করে সরকারের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।