ঢাকা : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি ও জালিয়াতি’ হচ্ছে দাবি করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তার দলের প্রার্থীদের কাছে ব্যাপকভাবে হারবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।
রাজধানীর পুরনো পল্টনের ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়- জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অভূতপূর্ব ঘটনা দেখা গেল। সরকারি দলের প্রায় ২০০ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এর আগে এই ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মনোননয়নপত্র নেওয়া বা জমা দিতে পদে পদে বাধা দেওয়া হয়েছে। অনেকক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত তারা জমা দিতেও পারেনি। মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারলেও ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে তারা প্রচার চালাতে বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেনি।
নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক ‘ব্যর্থতা’র প্রতিবাদে এবং মধ্যবর্তী সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে এই আলোচনা সভায় আয়োজন করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির যুব সংগঠন যুব কল্যাণ পার্টি।|
নির্বাচন কমিশন ‘খারাপ নির্বাচনে’র বিষবৃক্ষ রোপণ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এর প্রভাব জাতি কতদিন ভোগ করবে কে জানে।’
হাফিজ উদ্দিন দাবি করেন, স্বাধীনতার পর প্রথম ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগ প্রথম দেশে ‘ভোট জালিয়াতি’র সূচনা করেছিল।
দেশে গুম-খুন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দেশের তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা। ‘দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ায়’- বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ এখন তুমুল আলোচনায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
‘এখন মুসলিম বিশ্বের জন্য খারাপ সময় যাচ্ছে’- উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ইরাকের মতো একটি সুন্দর দেশকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এরপর টার্গেটে রয়েছে সিরিয়া। এভাবে লিবিয়া, ইরান, তুরস্ক।
‘মুসলিম দেশকে ধ্বংস করতে আজ শক্তিশালী দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ। এই অঞ্চলেও এক স্থানীয় মোড়লকে দায়িত্ব দিয়ে আমাদের পেছলে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের স্বার্থ বিবেচনা না করে আজ তাদের সবকিছু দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ফেরাতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করছে। আর ভোট ডাকাতি দেখতে চাই না। রাজপথে নামতে চাই।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নুরুল আফসারির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, যুব কল্যাণ পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. যোবায়ের নাহিদ প্রমুখ।