সিসি নিউজ : ১২ মামলার শুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য ঢাকার নিম্ন আদালতের পৌঁচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ বুধবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের পর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পৌঁছান তিনি। এ সময় উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি আইনজীবীরাও। সকালে আদালতে খালেদা জিয়ার হাজিরা দাখিল করেছেন তার আইনজীবীরা।
এর আগে তিনি ১০টায় রাজধানীর গুলশানের তার বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া জানান, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ঢাকার দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা ৯ মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন খালেদা জিয়া। মামলাগুলোর মধ্যে ৮টি মহানগর দায়রা জজ আদালতে ও একটি ঢাকার সিএমএম আদালতে বিচারাধীন।
তিনি আরো জানান, এ ৯ মামলা ছাড়াও নাইকো দুর্নীতি মামলা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি এবং বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দেবেন তিনি।
এদিকে বিএনপি প্রধানের হাজিরাকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার জনসন রোড, ভিক্টোরিয়া পার্কসহ পুরো আদালতপাড়ায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলছেন, বিএনপির কমিটি দেয়ার পর আদালতে খালেদার প্রথম হাজিরায় নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে পারে এবং সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার বিষয়গুলো মাথায় রেখে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বলে উল্লেখ করছেন তারা।
নাইকো মামলার নথির তথ্যমতে, কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম।
২০০৮ সালের ৫ মে নাইকো মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। এতে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগ থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম একটি মামলা করেন। পরে দুদকের উপপরিচালক মো. আবুল কাসেম ওই বছরের ৫ অক্টোবর খালেদা জিয়াসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করায় সরকারের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়।
অন্যদিকে, নাশকতার মামলাগুলোর মধ্যে গত ১১ মে দারুসসালাম থানার ৪(৩)১৫ এবং ৮(২)১৫ নম্বরের দুই মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির ৫১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
এর পর গত ২৬ মে দারুসসালাম থানার ৬(২)১৫ নম্বর মামলায় খালেদা জিয়াসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
গত ২৯ মে খালেদা জিয়াসহ ৫১ আসামির বিরুদ্ধে একই থানার আরো দুটি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
সর্বশেষ ৬ জুন দারুসসালাম থানায় ২৯(২)১৫, ৫(২)১৫, ৩১(২)১৫ ও ৬২(১)১৫ নম্বরের আরো চারটি মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১০৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল যাত্রাবাড়ী থানার নাশকতার মামলাসহ পাঁচটি মামলায় খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণ করে নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান।