
সিসি ডেস্ক: রিও অলিম্পিকে সোনার পদকজয়ী মার্গারিতা মামুন বাংলাদেশে আসবেন। ফেসবুকে এমন বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।তিনি জানিয়েছেন, রিতার বাবা বাংলাদেশী আব্দুল্লাহ আল মামুন মেয়েকে দেশে নিয়ে আসার কথা দিয়েছেন।
তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন রাশিয়ারই ইয়ানা কুদ্রাভতসেভাকে হারিয়ে রিও অলিম্পিকে অল-অ্যারাউন্ড রিদমিক জিমন্যাস্টিকস ইভেন্টে সোনা জিতেছেন মার্গারিতা মামুন। মার্গারিতার স্কোর ৭৬.৪৮৩। হিটে প্রথম হয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন। তাতে সবাইকে মুগ্ধ করে ছাড়িয়ে গেলেন হিটের স্কোর।
বাংলাদেশী বাবা আর রুশ মার ঘরে জন্ম নেওয়া মার্গারিতা অলিম্পিক গেমসের পঞ্চদশ দিনে বাংলাদেশ সময় শনিবার গভীর রাতে ব্যক্তিগত অল আরাউন্ট ইভেন্টে সোনা জেতার পর সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘তার এই জয় দুই দেশের জন্য।’
২০১৩ সালে কিয়েভে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ও কাজানে গ্রীষ্মকালীন ইউনিভার্সিয়াদে অল-অ্যারাউন্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম সবার নজর কাড়েন মার্গারিতা, মা-বাবা যাঁকে ডাকেন রিতা নামে। ওই সময়ই রাশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে তাঁকে নিয়ে শুরু হয় হইচই। রুশ ম্যাগাজিন ইউরো স্পোর্ত-এ তাঁকে নিয়ে করা হয়েছিল প্রচ্ছদ প্রতিবেদন। স্থানীয় গণমাধ্যম তাঁর নাম দেয় ‘বাংলার বাঘিনী’।
২০১৫ সালে বাকুতে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে হুপে জেতেন সোনা, অল-অ্যারাউন্ডে রুপা। বার্লিনে ২০১৩ সালের গ্রাঁ প্রিতে, পরের বছর অস্ট্রিয়ার ইনসব্রাকে এবং গত বছর চেক প্রজাতন্ত্রের ব্রনোতেও অল-অ্যারাউন্ডে সোনা জিতেছিলেন রিতা। পরশু রিওতে যখন সোনা জিতলেন, টেলিভিশন ধারাভাষ্যকারও মার্গারিতার নামের সঙ্গে ‘বেঙ্গল টাইগার’ শব্দটি উচ্চারণ করছিলেন বারবার।
জন্মভূমি রাশিয়া হলেও রিতা সোনা জেতার পর সাফল্যটা উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশ-রাশিয়া দুই দেশকেই, ‘আমার এই জয় দুই দেশের জন্যই।’ বাংলাদেশের হয়ে একবার অবশ্য জার্মানিতে জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছিলেন রিতা। বাংলাদেশ ও রাশিয়া দুই দেশেরই পাসপোর্ট আছে তাঁর।
রিতার সোনার পদক জয়ে আনন্দিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ফেসবুকে বার্তা দিয়েছেন এভাবে- ‘ইউরোপিয়ান চ্যম্পিায়নশিপ জেতার ২ দিন পরে গতবছর এইসময়ে তাদের সম্মানে নৈশ্যভোজের আয়োজন করেছিলাম মস্কোর অদূরে। মামুন ভাই কথা দিয়েছেন অলিম্পিকের পরে মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন। তখন ‘বাংলার বাঘিনী’র জন্য ফুলের তোড়াটা নিশ্চয় আরও অনেক বড় হবে।’