• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন |

ফখরুল হাসান বৈরাগী ৪১ দিন ধরে নিখোঁজ

%e0%a6%ab%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2সিসি ডেস্ক: অভিনেতা ফখরুল হাসান বৈরাগী ৪১ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় গত ৯ আগস্ট রাজধানীর কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ফখরুল হাসানের স্ত্রী রাজিয়া হাসান এমনটা দাবি করেছেন। তবে কলাবাগান থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত এ ধরনের কোনো জিডির কথা অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, পুরো ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক বিরোধ থাকতে পারে।

রাজিয়া হাসান বলেন, ‘ফখরুল হাসান বৈরাগী গত ৭ আগস্ট থেকে নিখোঁজ। ওই দিন ছেলে সামন্ত হাসানকে কলেজে পৌঁছে দিয়ে তিনি বাসার নিচতলায় এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এরপর বাসায় না ঢুকে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীর কাছে চাবি দিয়ে আমার কাছে তা পৌঁছে দিতে বলেন। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানান, ধানমণ্ডি ভূতের গলিতে ফখরুল হাসান বৈরাগীর নিজ বাড়ি রয়েছে। পুরনো ওই বাড়ি ভেঙে নতুন বাড়ি তৈরির নির্মাণকাজের প্রস্তুতি চলছে। এ কারণে প্রায় ১০ মাস আগে তাঁর পরিবার ওই বাড়ি ছেড়ে কলাবাগানে বর্তমান ভাড়া বাসায় উঠে আসে। এই বাড়ির নিচতলা থেকেই ফখরুল হাসান বৈরাগী নিখোঁজ হন।

জানতে চাইলে কলাবাগান থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, অভিনেতা ফখরুল হাসান বৈরাগীর নিখোঁজ সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কলাবাগান থানায় কোনো জিডিও করা হয়নি। তবে মিডিয়াসহ বিভিন্ন লোকজন দুই দিন ধরে থানায় ফোন করে তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁর সম্পর্কে জানতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

ওসি বলেন, ‘বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে ফখরুল হাসান বৈরাগীর সঙ্গে তাঁর ভাইবোনের কিছু মতবিরোধ চলছে। আর এ কারণে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে খোঁজ নিয়ে মনে হয়েছে।’

রাজিয়া হাসান জানান, তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাঁরা আগে সপরিবারে হাতিরপুলে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। প্রায় ১০ মাস ধরে তাঁরা আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে আছেন। তাঁর স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে তাঁকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তিনি যোগ করেন, এ বছর সপরিবারে তাঁদের হজে যাওয়ার কথা ছিল।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রাজিয়া হাসান বলেন, ফখরুল কোথায় যেতে চান বা কেউ তাঁকে ফোন করে ডেকে নিয়েছেন কি না তা তিনি জানেন না। তাঁরা ভেবেছিলেন রাতে বাসায় ফিরে আসবেন তিনি। কিন্তু ওই দিন রাত ৯টা পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় তিনি চিন্তায় পড়ে যান। এরপর তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিনও তাঁরা ভেবেছিলেন ফখরুল ফিরে আসবেন। এরপর ৯ আগস্টও তাঁর খোঁজ না পেয়ে থানায় জিডি করে পুলিশের সহযোগিতা চান তাঁরা।

কোন থানায় জিডি করেছেন জানতে চাইলে রাজিয়া হাসান বলেন, ‘বর্তমানে আমরা যে বাসায় ভাড়া আছি, সেই থানায় জিডি করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমানের ভাড়া বাসার ঠিকানা প্রকাশ করতে চাই না। আর জিডিতে বাসার ঠিকানা দেওয়া আছে। আমাদের একটাই চাওয়া, বৈরাগী যেন ভালোভাবে ফিরে আসে।

দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করবেন জানিয়ে রাজিয়া হাসান বলেন, ‘আমি ওর স্ত্রী, ও যদি নিজ থেকে কোথাও যেত তাহলে আমাকে বলে যেত। তবে ওর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে আমার মনেও কিছুটা সন্দেহ রয়েছে।’ কী ধরনের সন্দেহ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওর (ফখরুল হাসান বৈরাগী) ভাইবোনরা এ বিষয়ে আমাকে কোনো সহযোগিতা করছে না। এ বিষয়ে আমি যতটা উদ্বিগ্ন তারা ততটা নয়।’

উৎসঃ   কালেরকণ্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ