নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া কলেজের এক ছাত্রী অপহরণের ১০দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার না হওয়ায় পরিবারের লোকজন শংকিত হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মাতা মেরিনা বেগম বাদী হয়ে মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানীসহ তিন জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-০৯, তারিখ-১৪/১০/২০১৬। মামলায় শিক্ষকের ছেলে মেহেদী হাসানকে মুল আসামী করা হলেও ছাত্রীর সাথে ওই ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের সখ্যতার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় তাঁর সম্পর্কে নানান জল্পনা কল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, মাগুড়া মিয়া পাড়া এলাকার হকের মেয়ে হোসনে আরা (১৬) (উভয়ের ছন্দ নাম) কলেজ যাওয়ার পথে ৬অক্টোবর অপহরণ হয়। পরে ওই ছাত্রীর স্কুল শিক্ষক গোলাম রব্বানী তার ছেলে মেহেদী হাসান ও স্ত্রী ফুলজান বেগমকে আসামী করে এক সপ্তাহ পরে থানায় একটি মামলা দায়ের করে। অপহৃতার পিতা জানান, পুলিশ সহ সবাই সহযোগীতা করলে দ্রুত আমার মেয়েকে ফিরে পাব এমন আশা করছি। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম বলেন, ভিকটিম উদ্ধার এবং আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এদিকে মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্য মোজাহার হোসেনের উপস্থিতিতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, তাদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানীর সাথে সাবেক ওই ছাত্রীর ৮ম শ্রেণী থেকে এসএসসি পর্যন্ত সখ্যতার বিষয়ে নানান কাহিনী চলে আসছে। ওই ছাত্রীর বাড়ি অবাধ যাওয়া আসা করত ওই প্রধান শিক্ষক। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের রুমে তাদের বুট বাদাম খাওয়া আর অট্ট হাসি ঠাট্টা বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষকদের বিরক্তির কারন হওয়ায় সে সময় গভর্নিং বডির এই সদস্যসহ দু’একজনকে জানানো হয়েছিল। এছাড়া এসএসসি পাশ করার পর ওই ছাত্রীর সাথে সখ্যতা রক্ষার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোবাইল কিনে দেয়। সেই মোবাইল নম্বরটি সংগ্রহ করে পুলিশ ট্যাকিং করলে ওই ছাত্রী উদ্ধারের বিষয়টি সহজ হয়।
এ ব্যাপারে মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানী’র সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায় নি।