• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

স্বর্ণ কন্যা মাবিয়ার অভিযোগ সভাপতির বিরুদ্ধে

মাবিয়াখেলাধুলা ডেস্ক: গত দুই মাস ধরে ফেডারেশনে যেতে পারছেন না চলতি বছর ভারতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে বাংলাদেশকে স্বর্ণ পদক এনে দেওয়া কৃতি ভারাত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। ফেডারেশন সভাপতি মঞ্জুর কাদের কোরেশী তাকে নাকি যে কোনো জায়গায় দেখা মাত্র মারপিটের নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন। এ কারণে  ফেডারেশনে যাওয়া বাদই দিয়েছেন, ভয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মুখিও হচ্ছেন না তিনি। এমন গুরুতর অভিযোগই এনেছেন ১৮ বছ বয়সী এ ভারাত্তোলক।

দেশের মুখ উজ্জ্বল করা একজন অ্যাথলেটের সঙ্গে কী করে এবং কী কারণে তারই ফেডারেশনের সভাপতি এমন আচরণ করতে পারেন?

এমন প্রশ্নের এভাবে ব্যাখ্যা দিলেন মাবিয়া, ‘যেদিন স্বর্ণ জিতেছিলাম সেদিনই তিনি আমার উপর রাগ। আমার ইভেন্টের সময় তিনি ইনডোরে ছিলেন না। মার্কেটিং করতে গিয়েছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে কেন আমি ইভেন্টে অংশ নিলাম এবং স্বর্ণ জিতলাম, এই বলে তিনি আমাকে ধমকিয়েছিলেন!’

দেশে ফেরার পর মাবিয়াকে দুই লাখ টাকা পুরষ্কার দেয় ফেডারেশন। সেই টাকা থেকে নাকি অর্ধেক ভাগ চেয়েছিলেন বাংলাদেশ ভারাত্তোলন ফেডারেশন সভাপতি। টাকা না দেওয়ার কারণে মাবিয়ার উপর আরো চটে যান মঞ্জুর কাদের কোরেশী। এরপর থেকেই দেশের বাইরে বড় কোনো গেমসে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি তাকে।

এমন অভিযোগ এনে মাবিয়া বলেন, ‘ আমার কাছে উনি অর্ধেক টাকা ভাগ চেয়েছিলেন। সেটা না দেওয়ার পর থেকেই তিনি আমার উপর চূড়ান্তভাবে চটে যান। আমাকে ফেডারেশন থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় এশিয়ান যুব চ্যাম্পিয়নশিপ, কমনওয়েলথ যুব চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপে আমি অংশ নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ফেডারেশন আমাকে পাঠায়নি। এমনকি আমাকে প্রাকটিস করাও সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে আমি যেখানে চাকরি করি সেখানেই প্রাকটিস করছি।’

তবে মাবিয়ার এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফেডারেশন সভাপতি মঞ্জুর কাদের কোরেশী। এটাকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন তিনি। মাবিয়ার অভিযোগে হতাশ ও বিস্মিত কোরেশী বলেন, ‘সে আমার মেয়ের মতো। আমি তাকে সেভাবেই দেখি। এগুলো সব মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। মাবিয়া কার স্বার্থের কারণে এমন করছে তাও আমি জানি। আমি বৃদ্ধ মানুষ। সাবেক এমপি। আমি তার কাছ থেকে টাকা চাইব কেন। বরং আমিই তো তাকে এক লাখ টাকার চেক দিয়েছি।’

কোরেশী আরো বলেন, ‘আমরা তাকে ট্রায়াল দিতে বলি, কিন্তু সে ট্রায়াল নিবে না। আমরা তো কমনওয়েলথ যুব চ্যাম্পিয়নশিপে তার নাম এন্ট্রি করেছিলাম। কিন্তু সে ওটাতে অংশ নিবে না। সে অংশ নিতে চায় বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপে। কিন্তু ওখানে গেলে ২০-২৫ এর উপরে থাকা সম্ভব নয়। তাই আমরা চেয়েছিলাম এরচেয়ে ছোট গেমসে পাঠাতে। কিন্তু মাবিয়া এসব গেমসে অংশ নিতে রাজি নয়।’

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ভারতের গোয়াহাটিতে ৬৩ কেজি ওজন শ্রেনীতে স্বর্ণ জিতে আবেগে অঝোর ধারায় কেঁদে দেশবাসীর মন জয় করেছিলেন মাবিয়া। ২০১৫ সালে কমনওয়েলথ যুব চ্যাম্পিয়নশিপেও জিতেছিলেন স্বর্ণ পদক।

এসএ গেমসে অংশ নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত আর কোনো গেমসে অংশ নেননি মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।

উৎস: ঢাকা টাইমস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ