সিসি নিউজ: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে হোমিও ডাক্তারের ভূল চিকিৎসার কারনে ক্যান্সারে আক্রান্ত মৃত্যু পথযাত্রী মাদ্রাসা ছাত্রী মিনা এখন মুত্যুর প্রহর গুনছে। ইতোমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে তার এক পা। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিার অপারেশন করা হয় মিনার। তবে তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানান, মিনা’র বড় বোন আক্তারিনা। পরে তার কেটে ফেলা পা টি বাড়ীতে এনে বিকেলে দাফন করা হয়। তবে অসুস্থ্য মেয়ের জীবন মরন সন্ধিক্ষনেও তার জন্মদাতা নিষ্ঠুর পিতার দেখা মেলেনি। এ ঘটনার জন্য দায়ী হাতুড়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে আজও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।
পার্বতীপুর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের হয়বতপুর দালালিপাড়া গ্রামের মোঃ রাজুর মেয়ে মিনা বেগম (১৪) এর ডান পায়ের গোড়ালীতে ছোট একটি টিউমার হয় প্রাায় দেড় বছর আগে। মিনা স্থানীয় নীলকুঠির ডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীতে পড়ে। মন্মথপুর হোমিও প্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠতা ওই মাদ্রাসার সুপার হোমিও ও ডাক্তার আনিসুল হক মিনার টিউমারটি দেখে নিজে অপারেশন করতে চায়। মিনার পরিবারের কেউ রাজী না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকের দাবী নিয়ে আনিসুল হক জোরপূর্বক ব্লেড দিয়ে দোকানে অপারেশন করে ৭টি সেলাই দেয়। তারপরও রক্ত বন্ধ হয়নি। নিরুপায় হয়ে অসুস্থ্য মিনাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। অনেক চরাই উতরাই পেরিয়ে অর্থাভাবের কারনে দীর্ঘদিন পর তার অপারেশন হলো।
এব্যাপারে মিনারার স্বজনরা চিকিসকের বিচারে চেয়ে ইউপি চেয়ারনম্যানের কাছে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান আ. ওহাব মন্ডল বলেন, শিক্ষকের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। আপাততঃ মেয়েটির চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে । মেয়েটি সুস্থ হলে শিক্ষককে নিয়ে আলোচনায় বসা হবে।
পার্বতীপুরের ইউএনও তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, শিক্ষক আনিছুর রহমান অপারেশন করার কথা স্বীকার করেননি। অভিযোগকারীকে আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে আনিছুরকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।অভিযুক্ত শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, আমি একজন গভর্মেন্ট রেজিষ্টার্ড ডাক্তার। আমাকে সরকার চিকিৎসা করার পারমিশন দিয়েছে তাই চিকিৎসা করেছি। অপারেশন করার পারমিশন আছে কিনা জানতে চাইলে এড়িয়ে যান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে আইন আছে, আইনে আমার যা হবার হবে।মিনার স্বজনরা জানান, সে হয়তো বাঁচবে না, কিন্তু আমি ঐ মন্মথপুর হোমিও প্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠতা, নীলকুঠির ডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আনিসুর হকের শাস্তি দেখতে চাই। আর যেন কোন মেয়ের এ রকম না হয়। ডাক্তার আনিছুরের বিচারের দাবী জানান।