সিসি নিউজ: দৈনিক ইনকিলাবের সাংবাদিক, কর্মকতা-কর্মচারীসহ ৬০ জনের মতো কর্মীকে বিনা নোটিশে ছাঁটাই করা হয়েছে। এছাড়া পত্রিকাটিতে যারা কর্মরত আছেন তাদেরকে ওয়েজবোর্ডের পরিবর্তে নির্ধারিত বেতনে চাকরিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি স্বীকার করে ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, ‘২১ জন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সেকশন থেকে প্রায় ৬০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সংবাদকর্মীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটা এমন কেউ যদি হিসেব করে ১০০ টাকা পায় তবে তাকে ৩০ টাকা দেওয়া হবে। ৭০ টাকা দেওয়া হবে না। এর জন্য ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত দিতে হবে আমরা সমস্ত পাওনা বুঝে পেলাম। এই প্রস্তাব যারা মানেনি তাদেরকে গণছাঁটাই করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ২৬ মাসের বকেয়া পাওনা আছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইনকিলাবে যাদের রাখা হবে ওয়েজবোর্ড বাতিল করে কনসোলেটেড ওয়েতে (নির্ধারিত বেতন) চাকরি করতে হবে। এই শর্তে যারা থাকবেন তাদের রাখা হবে।’
এই প্রস্তাব দেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনকিলাবকে অষ্টম ওয়েজবোর্ডের যে ‘রেড কার্ড’ দেওয়া হয়েছে সেটা বহাল থাকার কোনো বৈধতা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পত্রিকাটির আরেকজন সংবাদকর্মী বলেন, ‘শুনেছি বার্তা বিভাগ থেকে ২৯ জন ও অন্যান্য বিভাগ থেকে ৩৬ জন কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে। ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হচ্ছে না। এক হিসেবে তারা বলছে, আমি প্রায় ১৭ লাখ টাকা পাব। কিন্তু আমাকে দিতে চায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা। আমরা চিন্তাভাবনা করছি। হয়তো আন্দোলনে যাব।’
কর্মী ছাঁটাই বিষয়ে জানতে চাইলে পত্রিকাটির প্রধান হিসাব কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আমি একটু ঝামেলায় আছি। এখন কথা বলতে পারব না।
এদিকে ইনকিলাবে গণচাকরিচ্যুতির ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ। বিএফইউজে সভাপতি শওকত মাহমুদ ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজে সভাপতি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এক যুক্ত বিবৃতিতে এ নিন্দা ও উদ্বেগ জানান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক দিনে দৈনিক ইনকিলাবের ২১ জন সাংবাদিককে বিনা নোটিশে ছাঁটাই এবং আরও বহু সংখ্যক সাংবাদিককে ওয়েজবোর্ডের পরিবর্তে নির্ধারিত বেতনে চাকরিতে বাধ্য করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।