• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন |

বদরগঞ্জে অপবাদ দিয়ে গৃহবধূর চুল কাটায় গ্রেপ্তার ৪

সিসি ডেস্ক: চরিত্রহীনা ও খারাপ মেয়ে অপবাদ দিয়ে মারপিট করে এক গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দিয়েছে গ্রামের প্রভাবশালীরা।

ঘটনাটি রংপুরের রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায়। এ ব্যাপারে শুক্রবার মামলা হলে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর এলাকার খাদেমুল হকের ছেলে মমিনুল হকের চম্পাতলীর বাজারে একটি মুদি দোকান রয়েছে। দোকানের পাশেই দিনমজুর গনেশ চন্দ্র রায়ের স্ত্রী সুচিত্রা রানীর বাড়ি। মমিনুলের দোকান থেকেই স্বামীর কথামত সংসারের যাবতীয় খরচ করত সুচিত্রা। কখনও বাকি আবার কখনও নগদ টাকায় বাজার করত। কিন্তু সুচিত্রা মমিনুলের দোকানে খরচের জন্য গেলে খরচ দেওয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপন করে নানা ধরনের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করত মমিনুল। এক পর্যায়ে সুচিত্রাকে কুপ্রস্তাব দেয় মমিনুল। বিষয়টি সুচিত্রা তার স্বামীকে জানায়। এরপর তার স্বামী ওই দোকান থেকে বাজার না কেনার জন্য বলেন। এ নিয়ে মুদি দোকানি মমিনুল গনেশকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেয়।

গত বৃহস্পতিবার মমিনুল হক বাড়িতে কেউ না থাকায় গনেশের বাড়িতে গিয়ে ঢোকে। এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূর মুখ চেপে তাকে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে মমিনুল হক। সুচিত্রার চিৎকারে মমিনুল পালিয়ে গিয়ে সুচিত্রার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপবাধ দেয়।

এ ঘটনায় মমিনুলের আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের লোকজন সুচিত্রাকে নষ্টা ও চরিত্রহীনা অপবাদ দিয়ে প্রকাশ্যে লাঠি পেটা করে মাথার চুল কেটে দেয়।

শুক্রবার বদরগঞ্জ থানায় এসে সুচিত্রা রানী অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমার স্বামী দিনমজুরি করে সংসার চালান। ঘটনার সময় স্বামী ও ছেলে মেয়েরা বাড়িতে ছিল না। মমিনুল বাড়িতে ঢুকে আমার মুখ চেপে ধর্ষণ করার চেষ্টা চালায়। আমার চিৎকারে লোকজন আসার আগেই সে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর মমিনুল আমাকে খারাপ মেয়ে বলে প্রচারণা চালায় গ্রামে। এরপর মমিনুলের আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের মানুষ আমাকে খারাপ নষ্টা চরিত্রহীনা বলে মারপিট করে মাথার চুল কেটে দেয়। আমি তাদের পা ধরে অনেক অনুরোধ করেছি আমাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা আমার কোন কথা শোনেনি।  আমি ওদের কঠোর শাস্তি চাই।এ ব্যাপারে নির্যাতিতা সুচিত্রা রানী বাদি হয়ে মমিনুল হককে প্রধান আসামি করে বদরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে কিশোরী মোহন (৬০), তার স্ত্রী সূর্যবালা (৫০),  মলিন চন্দ্র রায় (৪০) ও তার স্ত্রী জোতিকা রানীকে (৩২) গ্রেপ্তার করে। নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দামোদরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

বদরগঞ্জ থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, মমিনুল হককে প্রধান আসামী করে গৃহবধূ সুচিত্রা রানী নিজেই মামলা করেছেন। এরই মধ্যে চার আসামীকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামীদেরও গ্রেপ্তারে আভিযান চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ