সিসি ডেস্ক, ৩১ মার্চ: বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ চলে যেতে চাইছেন কি না, এ নিয়ে কোনো ধরনের গুঞ্জনে কান না দিতে বলেছেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গুঞ্জন পরিবেশ নষ্ট করে বলে মনে করেন তিনি।
শনিবার(৩১ মার্চ) দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য বিকৃত করার অভিযোগ আনেন তিনি।
আগের দিন শুক্রবার বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দিতে দাবি তোলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
কিছুক্ষণ পর সাংবাদিকদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ ওবায়দুল কাদের বলেন, অসুস্থ হলে খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসা করানো হবে।
এরপরই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশে চলে যাচ্ছেন কি না। সন্দেহ সৃষ্টি হয় চিকিৎসার আড়ালে খালেদাকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র কী না। বিশেষ করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সন্দেহ পোষণ করেন খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে এই ধরনের একটি সংবাদে বলা হয়, খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে, এই শর্ত মানলে বিএনপি নেত্রীর জামিনে বাধা দেবে না সরকার। সরকারের এমনও শর্ত আছে যে, খালেদা জিয়াকে বিদেশে চলে যেতে হবে।
ওই দৈনিকের দাবি অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ওই প্রস্তাব দেন মির্জা ফখরুল নিজে। যদিও ওই খবর প্রকাশের পর মির্জা ফখরুল ওই খবরকে ভিত্তিহীন বলেছেন। একই দিন ওবায়দুল কাদেরও এই খবর সত্য নয় বলে জানিয়েছিলেন।
কিন্তু শুক্রবার ফখরুল এবং কাদেরের বক্তব্যের পর সেই খবর নিয়ে আবার গুঞ্জন শুরু হয়।
খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দাবি করে তার মুক্তি চেয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি আমরা এখন তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই, যাতে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেশে হোক বিদেশে হোক আমরা করতে পারি। যেহেতু খালেদা জিয়া এর আগে দেশের বাইরেও চিকিৎসা করিয়েছেন, সেহেতু মুক্তি পেলে তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সরকার কোনো কার্পণ্য করবে না। চিকিৎসকদের বোর্ড যদি খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করার জন্য পরামর্শ দেন তাহলে তাই করা হবে।’
দুই নেতার এই বক্তব্যের পর খালেদা জিয়া সরকারের ‘শর্ত’ মেনে দেশের বাইরে চলে যাবেন কি না, এ নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয় সামাজিক মাধ্যমে। বিএনপির নেতা-কর্মীরাও জানার চেষ্টা করছেন, ভেতরে ভেতরে সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতার চেষ্টা চলছে কি না।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে আসা রিজভীর কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন একজন সাংবাদিক। তিনি বলেন, ‘গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে…’
তবে প্রশ্ন শেষ করতে পারেননি ওই গণমাধ্যমকর্মী। তাকে থামিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, ‘গুঞ্জনে কান দেবেন না। গুঞ্জন পরিবেশ নষ্ট করে।’
রিজভীর দাবি কিছু গণমাধ্যম ফখরুলের বক্তব্য বিকৃত করেছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কারাগারে অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং কারামুক্তির পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে নাকি বিদেশে চিকিৎসা করাবেন-সেই বিষয়ে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন।’
তবে এবিষয়ে শনিবার (৩১মার্চ) আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মন্তব্য করেন, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে মিথ্যাচার করছে বিএনপি। এসময় তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলহাজতে সিভিল সার্জন দেখেছেন ও বলেছেন তিনি আগে যেমন ছিলেন তেমনই আছেন।
বিএনপির অপর এক নেতা বলেন ‘সরকারের বিভিন্ন প্রস্তাব থাকলেও গোপনে কোনও কিছুই করবে না বিএনপি নেতারা। বিশেষ করে খালেদা জিয়া জেলে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে; এই অবস্থায় গোপনে বৈঠক করার মানেই হচ্ছে সরকারের কোনও ফাঁদে পা দেওয়া। বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন।’
বিএনপির রাজনীতির পর্যবেক্ষক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) বিদেশ চলে গেলে আওয়ামী লীগ খুশি হবে। নির্বাচন পর্যন্ত তিনি দেশে না ফিরলে আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই খুশি হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের এমন আশা পূরণ হবে না। তিনি মনে করেন, ‘সরকারের উচিৎ হবে খালেদা জিয়াকে বিদেশ না পাঠিয়ে তাকে জামিন দেয়া। তার শারীরিক পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। তাকে মুক্তি দেওয়াই যুক্তিসঙ্গত।’
জাতীয়তাবাদী ঘরানার বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমে বলেন, ‘সরকার চায় না খালেদা জিয়া রাজনীতিতে ফিরে আসুন বা রাজনীতি করুন। কারণ তার জনপ্রিয়তা ক্ষমতাসীন দলকে ধসিয়ে দেবে। প্রতিনিয়ত তারা অনুভব করে এটা।’