নীলফামারী প্রতিনিধি: র্দীঘ আট বছর পর জাতীয়তাবাদী যুবদল নীলফামারী জেলার নতুন কমিটি ঘোষণার একদিন অতিবাহিত না হতেই পাঁচ সদস্যের ওই কমিটির পদ থেকে তিন নেতা নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে জেলা শহরের মড়ালসংঘ মোড়ের মিডিয়া হাউজের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কমিটির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ওই তিন নেতা।
এরা হলেন নুতন কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী আখতারুজ্জামান জুয়েল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আল-নোমান-পারভেজ কল্লোল।
এর আগে দুপুরের দিকে যুবদলের প্যাডে নিজ নিজ নাম স্বাক্ষর করে পদত্যাগ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক বরাবরে ই-মেইলে পদত্যাগ পত্র প্রেরণ করেন।
একই সাথে ঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককের নাম প্রত্যাহার কওে সংগঠনের ত্যাগী ও পরীক্ষীত নেতাদের মধ্য থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে নতুন করে কমিটি ঘোষণার দাবী জানান তারা।
এদিকে একই দাবীতে যুবদল নীলফামারী সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি এস.কে মালেক ও পৌর শাখার সভাপতি মো. নূর আলম ও সাধারণ সম্পাদক শামিম শাহ আলম তমু পদত্যাগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাজী আখতারুজ্জামান জুয়েল অভিযোগ করে বলেন, চলতি জুন মাসের ১ তারিখ রাতে জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক এ.এইচ.এম সাইফল্লাহ রুবেলকে সভাপতি ও ডোমারের গোমনাতি নি¤œমাধ্যমিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহদাৎ হোসেন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।
ওই কমিটিতে আমাকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং আসাদুজ্জামান রিপনকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও আল নোমান পারভেজ কল্লোলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।
কেন্দ্র যে কমিটি ঘোষণা দিয়েছে তা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামানের পকেট কমিটি। যাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা দু’জনের কেউ দলের দূর দিনসহ বেগম খালেদা জিয়াকে কারগার থেকে মুক্তকরার আন্দোলনে কোন দিন দলের সাথে ছিলেন না। দু’জনই শামসুজ্জামান জামানের অনুসারী।
তিনি আরো দাবী করে বলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে বির্তকিত করার লক্ষ্যে শক্তিশালী যুবদলকে সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল করে নিজের আয়তে রাখতে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অর্থের বিনিময় প্রভাবিত করে এই কমিটি ঘোষণা করিয়েছেন।
প্রকৃত যুবদলের পরীক্ষীত ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে পকেট কমিটি ঘোষণা করায় আমিসহ ওই কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি।
এমনকি ওই পকেট কমিটি পত্যাখান করে জেলা যুবদলের সদর উপজেলা এবং পৌরশাখার নেতাকর্মীরা পদত্যাগ করেছে।
অতিবিলম্বে ত্যাগী ও পরীক্ষিত প্রকৃত যুবদলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা না দিলে আমরা নীলফামারী যুবদলের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা বৃহত্তর আন্দোলণে নামতে বাধ্য হবো। সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই দাবীতে রোববার দুপুরের দিকে মড়াল সংঘ মোড় থেকে নীলফামারী যুবদলের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর পদক্ষিণ করে। পরে পৌরমার্কেটস্থ জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সেখানে বক্তব্য রাখেন পদত্যাগকারী নেতা অ্যাডভোকেট কাজী আখতারুজ্জামান জুয়ের, আসাদুজ্জামান রিপন, আল নোমান পারভেজ কল্লোল, এস.কে মালেক, নূর আলম, শামিম শাহ্ আলম তমু প্রমূখ।
এবিষয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল বলেন,‘কেন্দ্র থেকে একটি কমিটি ঘোষণা দেওয়ার পর অনেকেই বিভিন্ন অভিযোগ তুলেন। তবে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নীলফামারী জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে এবং সার্বিক যাচাইবাছাই করে সংগঠনের পরীক্ষিত কর্মীকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে যুবদলের নতুন কমিটি দিয়েছেন।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে কেউ যদি পদত্যাগ করেন এ বিষয়ে আমার বলার কিছুই নেই। তবে নীলফামারী থেকে কারো কোন পদত্যাগ পত্র আমি হাতে পায়নি।’
উল্লেখ্য, ১জুন রাতে এ.এইচ.এম সাইফুল্লাহ রুবেলকে সভাপতি ও শাহদাৎ হোসেন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের নীলফামারী জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এর আগে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অ্যাডভোকেট আবু মো. সোয়েমকে আহবায়ক করে ৩১ সদস্য কমিটি বাতিল করা হয় বলে জানান জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল।