• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলাম রানার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলা হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত আগামী ১২ ডিসেম্বর সাকিবুলকে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।

মামলার বাদী মো. আতিকুর রহমান। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হওয়ার পর দুর্গাপুর শাখার কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

মামলার এজাহার ও বাদী সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাকিবুল ইসলাম আতিকুরের কাছ থেকে গত ৩১ মার্চ এক লাখ টাকা নেন। ৯০ হাজার টাকা ক্যাশ ও ১০ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নেন। মে মাসের মধ্যে আতিকুরকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। সময় পার হয়ে গেলে আতিকুর টাকা ফেরত চান। সাকিবুল দুই মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দুই মাস পার হয়ে গেলেও সাকিবুল টাকা ফেরত দেননি। গত শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুর্গাপুরে সাকিবুলের সঙ্গে দেখা হয় আতিকুরের। তখন টাকা চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন সাকিবুল।

পরে আজ সাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন আতিকুর। আইনজীবী মো. ইমরান কলিম খান বাদীর পক্ষে মামলাটি ফাইলিং করেন। তিনি বলেন, রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার আমলী আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক মো. লিটন হোসেন মামলাটি গ্রহণ করেছেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর আসামি সাকিবুল ইসলাম রানাকে আত্মসমর্পণের জন্য আদালতে সশরীরে হাজির হতে সমন জারি করেছেন আদালত।

মামলার বিষয়ে অভিযুক্ত সাকিবুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল ধরেননি। ছাত্রদলের নেতা থেকে হঠাৎ ছাত্রলীগের জেলার সভাপতি বনে যাওয়া সাকিবুলকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ছাত্রলীগ সভাপতি হওয়ার আগে সাইকেল চুরির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মদ খেয়ে মাতলামি করা, শাখা সংগঠনগুলো থেকে টাকা নেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সাত মাস আগে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি হওয়ার পরেই এক নারীর সঙ্গে তাঁর আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল বুধবার রাতে দলের এক নারী কর্মীর সঙ্গে সাকিবুল ইসলাম রানার মোবাইলে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। চার মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ওই অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়। এই অডিওতে সাকিবুল স্বীকার করেন, বড় চিটারি-বাটপারি করে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন। তিনি সব চিটারের সর্দার। এ ছাড়া ওই অডিওতে টাকা আর সহসভাপতি পদের লোভ দেখিয়ে নারী কর্মীর সঙ্গে তাঁর যৌন কেলেঙ্কারিরও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

‘বহুত চিটারি-বাটপারি কইরি ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট হইসি, আমি চিটারের সর্দার’

দলের এক নারী কর্মীর সঙ্গে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলাম রানার কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ৪ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়।

ওই অডিওতে ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়া সাকিবুল ইসলাম রানা বলেছেন, চিটারি-বাটপারি করে তিনি সভাপতি হয়েছেন। তিনি সব চিটারের সর্দার। ওই অডিওতে টাকা আর সহসভাপতি পদের লোভ দেখিয়ে নারীকর্মীর সঙ্গে তাঁর যৌন কেলেঙ্কারিরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

কথোপকথনটি এখানে তুলে ধরা হলো: 

কর্মী: হ্যালো আসসালামু আলাইকুম।
রানা: তুমি আমার সাথে নাটক করিচ্চো তাই না?
কর্মী: কিসের নাটক ভাইয়া?
রানা: তোমারতো কথা-কাজের একটাও মিল পাচ্ছি না।
কর্মী: কিন্তু আমার কথা ও কাজের মিলতো সব সময় থাকে।
রানা: কই আজ কার সাথে ঘুরতে গেলা, বললা ভাইয়া…
কর্মী: বুঝি নাই
রানা: তুমি কার সাথে গেলা, বললা এডা আমার ভাইয়া। তোমারতো ভাইয়াই নাই। এইডা হইলো?
কর্মী: কে বলল?
রানা: শোনো, আমার চোখ চারদিকেই থাকে…এসব চিটারি করতে পারবা না। বহুত বড় চিটারি-বাটপারি কইরি আমি প্রেডিডেন্ট হইছি…। সব চিটারের দলের সর্দার আমি।
কর্মী: জ্বী ভাইয়া।
রানা: তুমি না আসলে, না আসলে, তুমি কাউকে পাঠাইতে চাইলে সে কই?
কর্মী: এখন আমিতো ব্যস্ত ছিলাম। এর জন্যইতো হয় নাই।
রানা: এখন কই?
কর্মী: আমি বাসায় ভাইয়া
রানা: তুমি যে বাসায় চইলা গেলা, নিজে শান্তি পাইলে সব শান্তি। আর আমরা এভাবেই থাকি, নাকি? তোমাকে কত বিশ্বাস করি তুমি বলো তো?
কর্মী: আমিতো বিশ্বাসের মর্যাদা সব সময় রাখার চেষ্টা করি।
রানা: তুমি যার সাথে ঘোরো, তার চেয়ে যদি বড় নেত্রী হও, সেটা মানুষ মাইনা নিতে পারে না, এটা বোঝো না?
কর্মী: জ্বী ভাইয়া। এখন তৃষা আপু কি আমার সত্যিই খারাপ চাচ্ছে?
রানা: মসজিদে উঠে বললে বিশ্বাস করবে?
কর্মী: ছিঃ ছিঃ ভাইয়া। আমিতো আপনাকে বিশ্বাস করি। এটার জন্য এতদূর তো করতে হবে না।
রানা: তাহলে কেউ চায়, তার চেয়ে তুমি বড় হও? সে সাংগঠনিক, তুমি পার্টির যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট হও, তার চাইতে দুই গুণ রাস্তা উপরে তোমার। যুগ্মদের চাইতেও সিনিয়র তুমি…।
কর্মী: আমি তো আপনার কথামতো তৃষা আপুকে ছেড়ে দিলাম ভাইয়া। কিন্তু আপনাকে মেইনটেন যে করব, মানে একটা ব্যবহার আমার খুব খারাপ লেগেছে।
রানা: আমাকে তুমি মেইনটেন করবে, আমিতো সরাসরি বলেছি। তোমার ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট লাগবে আমি দেব। আমার কোন ন্যাচার খারাপ লাগল বলো?
কর্মী: আছেতো অনেক কারণই আছে।
রানা: শান্ত?
কর্মী: অবশ্যই শান্ত ভাইয়ার ব্যবহার। সেই দিনের ওইটা আমার খারাপ লেগেছে।
রানা: ওই যে তুমি বলছিলা, তোমার আরও লাগবে। তাই ভাবলাম তুমি একটু সুখে থাকো, খুশি থাকো।
কর্মী: এগুলোতো ভাইয়া অবান্তর কথা। আর আমার ফাইনান্সিয়াল সাপোর্টের কোনো প্রয়োজন নেই। সংগঠনটাকে ভালবেসেই আমি আসছিলাম।
রানা: তাহলে শোন, শান্ত-মান্ত কেউ থাকবে না। আমি একা…
কর্মী: তো ভাইয়া আপনি মেয়ের কথা কালকে বলছিলেন, যেটা ছবি পাঠাইছিলাম। এখন আপনি বললে তাহলে…
রানা: দেখো তো দেখো তো পাঠাতে পার নাকি।
কর্মী: এখন ভাইয়া উনিও তো ফ্যামিলির সাথে থাকে।
রানা: কেবল তো ৮টা বাজে রে। রাত হয়নি। একটু ফোন দাও দ্রুত। দিয়ে দেখো তো…। কেউ যেন না জানে।
কর্মী: না না কে জানবে! আপনি আমাকে ভরসা করতে পারেন।
রানা: কী রকম ভরসা করি দেখো না?
কর্মী: জ্বী ভাইয়া।

এই অডিও রেকর্ডটির বিষয়ে কথা বলতে সাকিবুল ইসলাম রানাকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কথোপকথনে থাকা নারীকর্মী জেলা ছাত্রলীগের একজন কর্মী। তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা যায়নি।

উৎস: দৈনিক আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ