সিসি নিউজ: বিএনপির সকল শ্রেণির নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের প্রত্যাশিত পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন। এতোদিন যারা নিস্ক্রীয় ছিলেন তারাও কাউন্সিলকে সামনে রেখে এখন সক্রিয় হচ্ছেন। যারা কারাগারে যাওয়ার ভয়ে এতো দিন পালিয়ে ছিলেন তারা জামিনের জন্য আবেদন করছেন। কাউন্সিলকে সামনে রেখে যারা বিদেশে ছিলেন তারাও এখন দেশে আসছেন।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, পদপ্রত্যাশীরা দলের মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে লবিং করছেন। অনেকে আবার স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে লবিং করছেন। ২৩ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করার পরেই মূলত এই লবিং শুরু হয়েছে। ওই বৈঠকে আগামী মার্চে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত হয়। কাউন্সিলের আগে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ জানুয়ারি বিএনপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। তারা তিন স্থানে কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন। ১৯ মার্চ বিএনপির এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অনুমোদনের উপর এই কাউন্সিলের তারিখ নির্ভর করবে। নির্দিষ্ট স্থানে অনুমোদন পাওয়ার পরেই তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা পার্টির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটিরি সদস্যদের বাসায় ও অফিসে আশীর্বাদ পেতে যাওয়া আসা করছেন। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক ও দফতর সম্পাদক পদের জন্য মির্জা ফখরুলের সঙ্গে লবিং করছেন। এমনকি দলের স্থায়ী কমিটিতে স্থান পাওয়ার জন্য অনেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের আশীর্বাদ পেতে চাচ্ছেন বলে জানান ফখরুলের সহযোগিরা।
পার্টির নেতারা জানান, দলের মহাসচিবের পদটি প্রায় নিশ্চিত হয়ে আছে মির্জা ফখরুলের জন্যে। এই পদের জন্য আর কাউকে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির নীতি নির্ধারনী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান ও যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নাম এই পদের জন্য বলা হয়েছিল।
বিএনপির বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ৭ জন যুগ্ম মহাসচিব, ৬ জন সাংগঠনিক সম্পাদক হবেন। নেতারা জানান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদটি রহিত করা হতে পারে আসন্ন কাউন্সিলে। স্থায়ী কমিটিতে স্থান পাওয়ার জন্য অনেক যোগ্যতা থাকতে হবে। এর মধ্যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, অতীত আন্দোলন সংগ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, উৎসর্গ, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, ব্যবসা ও আন্তর্জাতিকভাবে লবিং আছে এমন ব্যক্তিদের স্থায়ী কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির ১৯ সদস্যের মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হওয়ায় এই পোস্ট খালি রয়েছে। এছাড়া আরো ২/৩ জন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে আমার আশীর্বাদ পেতে ফোন করছেন। দলীয় অন্যান্য বিষয়ে কথা বলার কথা বলেছি। কোনো পোস্টের জন্য সুপারিশ করতে পারব না। দীর্ঘদিন পরে এই কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। উৎসর্গকৃত নাগরিক, দৃঢ় সংকল্প ও ভালো চরিত্রের ব্যক্তিরাই এবার নেতৃত্বে স্থান পাবেন।
বিএনপির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বলেন, দলের চেয়ারপারসন এই পদের জন্য নতুন মুখ খুঁজছেন। আমি আমার পদ ধরে রাখার জন্য আমার দায়িত্ব পালন করছি।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আহমেদ আযম খান বলেন, দলের কারো সঙ্গে লবিং করার প্রয়োজন নেই। নিজের কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে দলই কাজের দায়িত্ব দেবে। আমি দল ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।আস