• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন |

আরো ১৩ ইউপিতে আ.লীগের একক প্রার্থী

নৌকাঢাকা: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম দফায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আরো ১৩ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে গতকাল বুধবার এসব ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিসহ অন্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এই ১৩টির মধ্যে বাগেরহাটে সাতটি, ঝালকাঠির নলছিটিতে পাঁচটি ও খুলনার একটি ইউপি রয়েছে।

এর আগে ২৫টি ইউপিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন কেবল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এগুলোর মধ্যে বাগেরহাটেরই ১৯টি। এখন এই জেলায় ২৬টি ইউপিতে কেবল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা রইলেন।

বাগেরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার সাতটি ইউপির নয়জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করায় এগুলোতে একক প্রার্থী হিসেবে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা হলেন সদর উপজেলার খানপুরের বিএনপির প্রার্থী ও স্বতন্ত্র দুজন, কচুয়া উপজেলার বাধালের বিএনপির প্রার্থী, রামপাল উপজেলার পেড়িখালীর বিএনপির প্রার্থী। চিতলমারী সদর ও শিবপুর এবং মোল্লাহাট উপজেলার গাওলা ও চুনখোলার একজন করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে জেলার ৭৪টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ২০৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এদের মধ্যে ২৬টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ১০টি ইউপির মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থীসহ সাতজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গতকাল বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর ফলে ওই পাঁচ ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী রইল না।

নলছিটি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র বলেছে, কুলকাঠি ইউপির বিএনপির প্রার্থী এ বি এম মনিরুল ইসলাম, রানাপাশার আবদুর রশিদ, সিদ্ধকাঠির হাবিবুর রহমান মল্লিক, মোল্লারহাটের আবদুস সালাম ও দপদপিয়ার নাসির উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায়। এ ছাড়া দপদপিয়ায় ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন ও সিদ্ধকাঠির স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সত্তারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এই পাঁচ ইউপিতে এখন কেবল আওয়ামী লীগের প্রার্থী রইলেন। তারা হলেন কুলকাঠিতে এইচ এম আখতারুজ্জামান হাওলাদার, নাচনমহলে সিদ্দিকুর রহমান, মোল্লারহাটে কবির হোসেন, সিদ্ধকাঠিতে জেসমিন আরা ওবায়েদ ও রানাপাশায় মাসুদুর রহমান সালাম।

নলছিটি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে তিন দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কারসাজি করে বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

খুলনার তেরখাদা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচ এম পারভেজের মনোনয়নপত্র মঙ্গলবার প্রস্তাবক ও সমর্থক উপস্থিত হয়ে তাদের স্বাক্ষর জালের অভিযোগ করায় বাতিল করা হয়। ফলে ওই ইউপিতে এখন একমাত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম অহিদুজ্জামান।

এর আগে সোমবার ওই ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী এইচ এম মহিবুল্লাহর মনোনয়নপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি।

তেরখাদা সদর ইউপির রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন না। তার প্রস্তাবক ও সমর্থক লিখিতভাবে জানান, তাদের স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তখন প্রার্থীকে খোঁজা হয়। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রার্থী আসেননি। তার মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এ জন্য তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি আপিল করতে পারবেন।

এদিকে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীন দলের বাধায় বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির ৮৩ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি এবং অনেককে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য আজ বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে। এসব আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২ মার্চ। ওই সময়ের পরেই জানা যাবে ভোটের লড়াইয়ে কোন দলের কতজন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে টিকে থাকছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ