সিসি ডেস্ক, ৩১ অক্টোবর।। উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন তাদেরকে শর্ত সাপেক্ষে ক্ষমা করে দিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে ভবিষ্যতে সংগঠন বিরোধী কোন ধরণের কার্যক্রমে অংশ নিলে আর ক্ষমা করা হবে না বলেও দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের আগমুহূর্তে দলীয় ঐক্য ধরে রাখতে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে তৃণমূলের মেয়াদোর্ত্তীন্ন ইউনিটগুলোর সম্মেলন সম্পন্ন করা হচ্ছে। তৃণমূলের এসব সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যেন কোন ধরনের দলীয় কোন্দল সৃষ্টি না হতে পারে সেদিকে সজাগ রয়েছে দলটি। সে লক্ষ্যে বিদ্রোহী ইস্যুতে নমনীয়তার নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়া কয়েকজন জানান, দলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। আমরা নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে সক্ষম হয়েছি। আগামীতে সংগঠনের স্বার্থপরিপন্থী কার্যক্রম ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে এবারের মত শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে।
দেশে পাঁচ ধাপের উপজেলা নির্বাচন শেষ হয়ে গেলো গত ১৮ জুন। নির্বাচনে ৪৭৩ উপজেলার মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে ৩২০টিতে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ১১৫ জন নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। চেয়ারম্যান পদে জয়ীদের মধ্যে ১৩৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে এর মধ্যে ১৩ জন বাদে সবাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। উপজেলা নির্বাচনের এ ফলাফলকে ‘বিদ্রোহীদের জয়জয়কার’ বলে অভিহিত করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, বিদ্রোহীদের ক্ষেত্রে নমনীয় মনোভাব, মনোনয়ন দেওয়ার সময় ক্ষেত্র বিশেষে তারুণ্যের মত উপেক্ষা করা, নির্বাচনে স্থানীয় প্রভাব, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং মন্ত্রী-এমপিরা দল মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন-সহায়তা না করা বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এত সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে। তবে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নেওয়ায় বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে নাই। দল সামগ্রিকভাবে সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে বিদ্রোহীদের ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের শাস্তি মওকুফ প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন এবারের মত দল তাদের শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করেছে। তবে এটা ভাববার কোন কারণ নাই যে আগামীতেও ক্ষমা করা হবে। এবারে ওয়ার্নিং দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে অ্যাকশন নেয়া হবে।’