হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গত কয়েক দিনের প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। তীব্র তাপদাহে সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়েই ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে করে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এর পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিং চরম আকার ধারন করায় জনজীবনের চাকা যেন থেকে গেছে। সাথে সাথে অফিস, ব্যাংক বীমা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুলোর কায়ক্রম থেমে যাওয়ায় উপক্রম হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৪.০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২২.০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ রকম তাপমাত্রা আরো কয়েকদিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আপাতত ঝড়ের সম্ভাবনা না থাকলেও তাপমাত্রা আরো বাড়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানা গেছে। এদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং দিন দিন বাড়ছে তো বাড়ছেই। সাথে সাথে প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। বিশেষ করে শিশুদের জন্য মারাত্বক বিপদজনক। ভ্যাপসা গরমে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। সোর্দী জর ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে। গরমে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। এছাড়া পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, প্রচন্ড গরমের কারণে বিভিন্ন হাট-বাজার, মোড়গুলোতে ভ্রাম্যমাণ তরমুজ, ডাব ও আখের রসের দোকান বসেছে। এসব দোকানে ভিড়ও বেশ। এছাড়া গ্রামগুলোতে গরমে অতিষ্ঠ ছোট শিশুরা পুকুরে নেমে দীর্ঘক্ষন ধরে ডুব-সাঁতারসহ গোসল করছে। সচেতন মহল বলেন তিব্র গরম ও লোডশেডিং এর কারণে মানুষজনের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এছাড়াও সামনে পবিত্র রমজান মাস, কেজি প্রতি চালের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর দামও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, প্রচন্ড এই তাপদাহে বেশি বেশি করে পানি পান করতে হবে। রোদের মধ্যে বেশিক্ষণ চলাচল করা যাবে না। শিশুদের খুবই যতেœ রাখতে হবে যাতে গরমের ঘাম তাদের শরীরে বসে না যায়। এছাড়া শারীরিক অসুবিধা মনে হলেই দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বলে তিনি জানান।