বরগুনা: আইনজীবী নির্যাতনের অভিযোগে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাকসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মাইনুল আহসান তালুকদার আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। পরে আদালতের বিচারক বৈজয়ন্ত বিশ্বাস মামলাটির শুনানির জন্য ১১ মে পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন, আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলক চন্দ্র, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফুর রহমান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনিরুল ইসলাম।
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম সাজ্জাত মিসকাত বলেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মো. মাইনুল আহসান তালুকদারকে নির্যাতনের ঘটনায় আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে বিচারক মামলাটি আমলে নেওয়ার জন্য ১১ মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
মামলার বিবরণে জানান, পহেলা মে বাদীর ভাই আহসান হাবিবের মোটরসাইকেলের সঙ্গে কুয়াকাটা থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তার ভাই গুরুতর আহত হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে তিনি (মাইনুল) তার ভাইকে দেখতে সেখানে যান। অপর মোটরসাইকেলের চালক বরিশালের স্থানীয় একটি পত্রিকার প্রতিবেদক অপু রায়ও সেখানে ছিলেন।
এক পর্যায়ে অপু পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মাইনুল তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এতে এসআই আরিফ ও কয়েকজন কনস্টেবল বাধা দেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে পুলিশের বাক-বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ মাইনুলকে আটক করে আমতলী থানায় নেয়। সেখানে রাতভর ওসি পুলক চন্দ্র রায় ও এসআই আরিফ দফায় দফায় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বরিশালের স্থানীয় সংবাদকর্মী অপু রায় সাংবাদিকদের বলেন, ওই দুর্ঘটনায় আমিও আহত হয়েছি। আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। তখন ওই আইনজীবী আমাকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাক-বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন প্রয়োগ করে। তবে পুলিশি হেফাজতে ওই আইনজীবীকে নির্যাতন হয়েছে কি না তা তারা বলতে পারেননি।
বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বলেন, থানা হাজতে কাউকে নির্যাতন করা হয়নি। বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে একটা নালিশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি আইনগত ভাবে মোকাবেলা করা হবে।
তিনি আরো বলেন, আহত আইনজীবী এর আগেও (২০১২ সালে) পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে এক পুলিশ সদস্যের হাত ভেঙে ফেলে। যার মামলা নং জি আর ২৩৮। এ মামলায় তিনি ৭ নম্বর এজাহার ভুক্ত আসামি।