মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর : দিনাজপুর উপজেলার পল্লীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়েকে দিয়ে মিথ্যা অপহরণ মামলা করিয়েছিলেন আলেমা বেগম। মামলা করিয়ে নিজেকে রেখেছিলেন লোকচক্ষুর আরালে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। গ্রামবাসীর ঘেরাওয়ের মুখে ধরা পড়তে হয়েছে তাকে।
আলেমা বেগম (৪৫) দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামের মো. নূরুল ইসলামের স্ত্রী। নুরুল ইসলাম একই গ্রামের মো. দারাসতুল্লাহ মিয়ার পুত্র। তার সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে তার আপন ভাই মো. মোস্তফা (৬০), আব্দুল আজিজ (৬৫) ও আজিজুর রহমানসহ তাদের সন্তানদের।
এই বিরোধের জেরে নুরুল ইসলাম তার আপন ভাই ও ভাতিজাদের ঘায়েল করার জন্য স্ত্রী আলেমা বেগমের দ্বারা গত ২৮ এপ্রিল দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত-১ এ একটি ডাকাতি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- সিআর ১৯৯/১৬। এর পর তিনি স্ত্রীকে তার বন্ধু বোচাগঞ্জ উপজেলার আটগাঁও গ্রামের সোনামিয়ার কাছে পাঠিয়ে দিয়ে মেয়ে নুরে জান্নাতকে দিয়ে গত ৬ মে আরেকটি মিথ্যা অপহরণ মামলা করান। উভয় মামলাতেই মো. মোস্তফা (৬০), আব্দুল আজিজ (৬৫) ও আজিজুর রহমানসহ তাদের সন্তানদের আসামী করা হয়।
ডাকাতি ও অপহরণের মিথ্যা অভিযোগে পুলিশী তৎপরতার মুখে আসামীরা যখন ঘরছাড়া, সেই সময় খবর আসে যে, আলেমা বেগম বোচাগঞ্জের আটগাঁওয়ে জনৈক সোনামিয়ার বাড়িতে লুকিয়ে আছেন। খবর পেয়ে ৮ মে রোববার রাতে আউলিয়াপুরের আব্দুস সাত্তার, আব্দুল আজিজ, রাশেদ, সোহেল ও সোহাগ আটগাঁও গ্রামে গিয়ে সোনামিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে সোনামিয়া তার নিজের বাড়িতে অন্য কোন মহিলার অবস্থানের কথা অস্বীকার করেন।
এ অবস্থায় গ্রামবাসীর সহায়তায় সোনামিয়ার বাড়ি ও আশপাশের এলাকা চতুর্দিক হতে ঘেরাও করা হলে আলেমা বেগম নিজেকে খড়ের পুঁজের (খড়ের টাল) ভেতর লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু গ্রামবাসী তাকে খরের ভিতর দেখতে পায় ও ঘেরাও করে রাখে। পরে কোতয়ালী থানায় খবর দেয়া হলে থানার এসআই দ্বীপেন চন্দ্র’র নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলেমা বেগমকে আটক করে কোতয়ালী থানায় নিয়ে আসেন। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মিথ্যা মামলায় হয়ারনীর অভিযোগ এনে আব্দুল আজিজ তার ভাই নুরুল, ভাইয়ের স্ত্রী আরেমা, কন্যা নুরে জান্নাত ও পুত্র আসাদুলের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় আউলিয়াপুরের শত শত গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন।