জাহাঙ্গীর আলম, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনোত্তর বিএনপি প্রার্থী ও তার সমর্থকদের সহিংসতা ও তান্ডবে আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িঘর ও অফিসে হামলা লুটপাট অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় একজনের মৃত্যুসহ ১০ জন আহত হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, গত ৭ মে ইউপি নির্বাচনের পর উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বিএনপি’র বিজয়ী প্রার্থী মোঃ মুসাব্বের আলী মুসার সমর্থকরা খালিশাকোটাল গ্রামের পরাজিত আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোঃ হাসেন আলীর সমর্থক গ্রাম্য চিকিৎসক মোঃ নুরুল হকের ছেলে মোঃ শাহীন ও একই গ্রামের আমিনুল ইসলাম গত রোববার সন্ধ্যায় বালারহাট বাজারে আসলে বিএনপি সমর্থক বালাতারী গ্রামের মৃত আফছার আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম ও একই গ্রামের আনছার আলীর ছেলে চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মোঃ আয়নাল হকের নেতৃত্বে ৮/১০ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ মোঃ শাহীন ও আমিনুলকে প্রচন্ড মারপিট করে আটকে রাখে। পরে তারা নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ অফিসে ভাঙচুর চালায়। তাৎক্ষনিক ভাবে বিষয়টি উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ জানতে পেয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম রব্বানী সরকারের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ কর্মিরা বালারহাট বাজারে প্রবেশ করলে তারা পালিয়ে যায়। তখন বিএনপি ইউনিয়ন অফিসেও হামলা করা হয়। শাহীন ও আমিনুলকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে ফূলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছেলে শাহিনের মারপিটের খবর জানতে পেয়ে বাবা নুরুল হক স্টোক করলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সোমবার সকালে মারা যান। অন্য দিকে রোববার রাতে পশ্চিম ফুলমতি গ্রামে আওয়ামীলীগ সমর্থকেরা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থক পশ্চিম ফুলমতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হকের বাড়ীতে হামলা চালায়। একই ইউনিয়নের গোরক মন্ডলে বিডিআর বাজারে গত তিনদিন থেকে বিএনপি সমর্থকেরা বাজারের মোশারফ ও সফুর গালামালের দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসময় মোশারফ ও সফুসহ হোসেন আলী, আলেপ উদ্দিন, গৌরাঙ্গ মারাত্বক আহত হন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বালারহাট বাজারের পশ্চিম ও পূর্ব দিকে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র সমর্থিত লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ ও বিজিবি’র সদস্যরা ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।
দুপুরে উপজেলা নিবার্হী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, জনসাধারণের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আমি পুলিশ ও বিজিবিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ এবিএম রেজাউল ইসলাম জানান, আমি ঘটনাস্থলে রয়েছি। নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোরকমন্ডল থেকেও একটি অভিযোগ পেয়েছি।