সিসি সিউজ: জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে বুধবার রাতে ফাঁসি দেয়া হয়। এ নিয়ে প্রধান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি অনলাইন।পাঠকদের জন্য সেই প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো-
বাংলাদেশের একজন ইসলামপন্থী নেতাকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার অপরাধের মামলায ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। মতিউর রহমান নিজামীকে (৭৩) স্থানীয় সময় বুধবারের শুরুতে ফাঁসি দেয়া হয় বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গণহত্যা, ধর্ষণ এবং নির্যাতনের অভিযোগে তাকে দণ্ডিত করা হয়। নিজামী ছিলেন বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রধান। তার ফাঁসিতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে উল্লাস করেছে কয়েক মানুষ।
২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে তাদের মধ্যে নিজামী পঞ্চম এবং সর্বোচ্চ পদাধিকারী। বাংলাদেশ সরকার বলছে, সংঘাতের ক্ষত নিরসনে বিচার জরুরি ছিল। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে বিচারে আন্তর্জাতিক মান এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির ঘাটতি ছিল।
‘ন্যায়বিচার বঞ্চিত’
গত সপ্তাহে নিজামী তার চূড়ান্ত আপিলে হেরে যান। ‘নিজামীকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার,’ বলছিলেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ। বৃহস্পতিবার হরতাল ডেকেছে জামায়াত। ফাঁসির আগে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে নিজামী হচ্ছেন জামায়াতের চতুর্থ নেতা যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। নিজামী হচ্ছেন একজন সাবেক মন্ত্রী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব যাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। স্বাধীনতাপন্থী কর্মীদের চিহ্নিত করতে তিনি একটি মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজামীকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে (হয়েছে)।
ফাঁসি কার্যকরের আগে তার পরিবারের সদস্যরা কিছুক্ষণের জন্য তার সাথে সাক্ষাৎ করেন কিন্তু গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলেননি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কত মানুষ নিহত হয়েছে তার সঠিক সংখ্যা স্পষ্ট নয়। এই সংখ্যা ৩০ লাখ দাবি করা হলেও নিরপেক্ষ গবেষকদের মতে, নিহতদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ লাখ হতে পারে।