• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বান্দরবানে বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গলা কেটে হত্যা

হত্যাবান্দরবান : বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত বৌদ্ধ ভিক্ষুর নাম মং শু ইউ (৭০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারির উপর চাকপাড়া বৌদ্ধ মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। মন্দিরের ভেতরেই নিহতের লাশ পাওয়া যায়। মং শু ইউ ওই এলাকার মৃত অংথোয়াই চাকের ছেলে।

আরো জানা গেছে, ভোর ৫টায় শ্বশুরকে পুত্রবধূ মানুংচিং চাক ভাত দিতে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। কাঠের তৈরি বৌদ্ধ মন্দিরে শোয়া অবস্থায় ঘাড়ের পেছনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার সঙ্গে কারো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো শত্রুতা ছিল না বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানান, উপর চাকপাড়া বৌদ্ধ মন্দিরটি দু’বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মন্দিরের নির্জন স্থানে বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের অংশ হিসেবে তিনি দুই বছর ধরেই সেখানে ধ্যান করছিলেন। নিহতের পরিবার থাকলেও তিনি মন্দিরটিতে একাই থাকতেন বলে জানা গেছে।

উপর চাকপাড়ার বাসিন্দা মং বাচিং চাক জানান, তিনি এলাকায় বাইট্যা মছু নামে পরিচিত ছিলেন। সহজ-সরল হওয়ায় এলাকার সবাই তাকে ভালোবাসত।

দেশের বিভিন্ন স্থানে পুরোহিত ও খ্রিস্টান ধর্মযাজক হত্যাকা-ের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো মিল আছে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার সেকেন্ড অফিসার কাজী আহসান বলেন, ‘হ্যাঁ, মিল আছে। আমাদের সন্দেহের তালিকায় আনসার উল্লাহ বাংলা টিম থেকে শুরু করে অনেককে সন্দেহ করছি।

তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্টের জন্য কোনো মৌলবাদী গোষ্ঠি এই হত্যাকা- ঘটাতে পারে। এক্ষেত্রে দেশে থাকা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনকে সন্দেহের বাইরে রাখছেন না স্থানীয়রা।

এদিকে ঘটনার পর বাইশারি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আনিসুর রহমান, সহকারী ইনচার্জ উমর ফারুকসহ নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এ ব্যাপারে এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার ঘটনা এই প্রথম। তবে এই বৃদ্ধ ভিক্ষুকে কেন হত্যা করা হলো সে বিষয়ে আমরা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। তদন্তসাপেক্ষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ