মোঃ হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) : দারিদ্র্যতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বিজয়ী দুই ভাই বোন। দারিদ্র্যতা কখনও তাদের মেধা বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ছিলনা ভাল খাবার, থাকার স্থান আর পোশাক তবুও অদম্য ইচ্ছা শক্তি তাদের দুর্লভ সাফল্য এনে দিয়েছে। চলতি এসএসসি পরীক্ষায় গোলেন্ড জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়েছে এ অদম্য মেধাবী ভাই বোন। একই সঙ্গে দুর্লভ সাফল্য লাভ করেছে। উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে মানুষের সেবা করতে চায় তারা। তাদের এই ভাল ফল নিয়ে চিন্তিত অসহায় বাবা মা।
আব্দুল্লাহ আন-নাজমুস ও মানামাম মাঞ্জিলা আপন ভাই বোন। উপজেলার থানাহাট এ ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় নাজমুস ও থানাহাট এ ইউ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মঞ্জিলা চলতি এসএসসি পরীক্ষায় ভাই ও বোন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোলেন্ড জিপিএ-৫ পেয়েছে। তারা চিলমারী উপজেলার মন্ডলপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র মাওঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান মাছুদের সন্তান। তিনি আগ্রাবালিয়াদিঘী গাফুরিয়া দারুসছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার চাকরি করতেন কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস প্রায় ১২ বছর আগে একটি মিথ্যা অভিযোগে বরখাস্ত হন। এরপর থেকে শুরু তার দুঃখের জীবন গাথা। বর্তমানে একটি মসজিদে ইমামতি দিয়ের সংস্যারে হাল ধরেছেন এবং বেসরকারী সংস্থা কারিতাসের দেয়া একটি ঘরে গাদাগাদি করে তাদের ৪জনের বসবাস। সম্পদ বলতে ৩শতক বাড়িভিটা। সংস্যারের এই অভাব অনটন তার ছেলে মেয়ের মেধাকে আটকিয়ে রাখতে পারেনি। শুধু তাই নয় অনেক রাত গেছে তেলের অভাবে কুপিবাতিও জ্বালানো সম্ভব হয়নি। ফলে মায়ের কাজের সহযোগীতার পাশাপাশি রান্নাঘরে চুলার আগুনের আলোয় পড়তে হয়েছে অনেক রাত। রান্না শেষ পড়াও শেষ। কখনও কখনও রাতে চাঁদের আলোয় পড়েছে। বছরের অধিকাংশ দিন সকালে খাবার জুটতো না। জোটেনি স্কুলে যাওয়ার ভাল ড্রেস। ভাল খাবার, ভাল পোশাক, বই-খাতা-কলম কোথায় পাবে? ২সন্তান মা ও বাবা মিলে ৪ জনের সংসার। কতদিন গেছে না খেয়ে তা তারা নিজেরাও বলতে পারে না। আর বই খাতা কলম কোথায় পাবে তবে তাদের পাশে বাবা মা ছাড়াও এসময় দাড়িয়েছিল বন্ধু বান্ধবী ও শিক্ষকরা। তাদের অদম্য মেধা দেখে শিক্ষক আঃ রউফ, মোঃ জিয়াউর রহমান, তৈয়ব বাবুল, লুৎফর রহমান ও জগদিস বাবু বিনা পয়সায় বিনা খরচে প্রাইভেটসহ বিভিন্ন সহযোগীতা করেন বলে দুই ভাই বোন জানান। তারা আরো জানান তাদের বন্ধু বান্ধবীরাও অনেক সহযোগীতা করেছে। এছাড়াও ফুলকলি মেরিট কেয়ার স্কুল এন্ড কোচিং সেন্টার কতৃপক্ষ তাদের ফ্রি কোচিং করার সুযোগ করে দিয়েছিল। তারা এখন ভাল ফল অর্জন করেও হতাশ কি হবে তাদের কি ভাবে অর্জন করবে উচ্চশিক্ষা। অর্থনৈতিক কারণে যেন উচ্চ শিক্ষার পথ রুদ্ধ। মানামাম মঞ্জিলার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন এবং আব্দুল্লাহ আন-নাজমুস সাকিবের ইচ্ছা প্রকৌশলী হওয়ার। মা সাদেকা বেগম একজন গৃহিনী বোঝে না গোলেন্ড জিপিএ-৫ কি শুধু বোঝে আর শুনেছে তার ছেলে মেয়ে খুব ভাল রেজাল্ট করেছে সবার মুখ উজ্জ্বল করেছে। কিন্তু তিনি হতাশ কি হবে এই রেজাল্ট কোথায় পাবে পড়াশুনার খরচ কি হবে তাদের ভবিষ্যত। তবে পিতার স্বপ্ন তাদেরকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলার এতে যত কষ্টই হক কিন্তু বার বার দারিদ্রতা তার পিচু টেনে ধরছে। প্রিয় সন্তানের এ স্বপ্ন পূরণের সামর্থ্য তার মতো গরিব পিতার নেই। পিতা হয়ে এ অক্ষমতার কষ্ট, লজ্জা হতাশার সাগরে তাকে ডুবিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।