নীলফামারী প্রতিনিধিঃ সৈয়দপুর রেলস্টেশনে ট্রেনে চোরাচালান রোধের অভিযান পরিচালনার সময় জিআরপি পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলা হলো অবৈধভাবে বিদেশী পন্য বহন ও অপরটি হলো সরকারী কাজে বাধার অভিযোগে। দায়ের করা দুটি মামলায় নামীয় ৪জন সহ অজ্ঞাত দুইশ জনকে আসামী করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে সৈয়দপুর জিআরপি থানায় মামলা দুইটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী হলেন, ওই থানার এসআই বেলাল হোসেন। আসামীদের মধ্যে জিআরপি পুলিশ চোরাকারবারীর সদস্য তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলো হিজড়া সম্প্রদায়ের সৈয়দপুর পাটোয়ারীপাড়ার মৃত আব্দুল হালিমের সন্তান সোনিয়া হিজড়া (৩০), দিনাজপুর,জেলার পার্ব্বতীপুর উপজেলার আদর্শপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার সন্তান হিজড়া ফুলকি (২৮) ও বেলাল হোসেন (২৬)। নামীয় আসামীদের মধ্যে নাটোরের স্বপ্না রানী হিজড়া পলাতক রয়েছে। আর গ্রেফতারকৃত তিন হিজরাকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে নীলফামারী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বিবরনে জানা যায়, একটি মামলায় ট্রেনে জিআরপি পুলিশের অভিযানে ভারতীয় অবৈধভাবে বহনকরা ২৫৭ প্যাকেট জিরা, ৫টি হরলিক্স ও একটি শাড়ী উদ্ধারের সাথে সোনিয়া হিজড়া, ফুলকি হিজড়া ও তার তার ভাই বেলাল হোসেনকে আসামী করা হয়। দ্বিতীয় মামলায় পুলিশি কাজে বাধা দেয়ার অপরাধে ওই তিন জন সহ স্বপ্নারানী এবং অজ্ঞাত দুইশজন কে আসামী করা হয়েছে।
জিআরপি থানা পুলিশ সুত্র মতে, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রেনে চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান চালায় জিআরপি পুলিশ। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা নীলফামারীর সৈয়দপুর স্টেশনে ঢোকার মুখে আন্তঃনগর তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়। আটকৃতদের ছেড়ে দেয়া সহ আটক মালামাল ফেরত দাবি করে ওই ট্রেনে থাকা শতাধিক হিজরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। এমনকি ট্রেনটি সৈয়দপুর রেলস্টেশন থেকে নীলফামারী অভিমুখে ছেড়ে যাওয়ার সময় হলে তাঁরা রেললাইনে শুয়ে পড়ে আত্বহত্যার হুমকি দিলে পুলিশ তাঁদের মৃদু লাঠিপেটা করে। তখনই শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ও হিজড়াদের তান্ডব। রেলপথের পাথর ছুড়ে পাল্টা হামলা করে হিজড়ারা। এ সময় রেলওয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ওবাইদুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল ও রশিদুল ইসলাম, কনস্টেবল ফারুক হোসেন, রুবেল হোসেন ও সুজন কুমার মজুমদার এবং স্থানীয় সাংবাদিক এমআর আলম ঝন্টু আহত হয়।
সৈয়দপুর জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।