ঢাকা: ঢাকার ধামরাইয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা স্কুল শিক্ষিকা অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় ‘প্রেম-ভালোবাসা করলেই কী বিয়ে করতে হবে নাকি’ জানিয়ে প্রেমিকসহ পরিবারের লোকজন ওই স্কুল শিক্ষিকাকে বেধড়র মারপিট করে তাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। ওই স্কুল শিক্ষিকা সুয়াপুর ইউনিয়নের শিয়ালকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেনের মেয়ে। বৃহস্পতিবার ধামরাইয়ের সুয়াপুর ইউনিয়নের শিয়ালকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষিকার সতীত্ব হরণকারী ওই প্রেমিকের বিচার ও শাস্তি দাবিতে একাট্টা হয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের জনতা। যে কোনো সময় ওই প্রেমিকের বাড়িতে এলাকাবাসীর হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে একই গ্রামের মো. আবুল হোসেন ডাক্তারের ছেলে মো. মনিরুজ্জামান চপল। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তাদের এ প্রেমের সম্পক চলে। এ সময় তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।
পরে প্রেমিক মনিরুজ্জামান চপল প্রেমিকা স্কুল শিক্ষিকাকে বাগে আনতে নাকফুল পড়ায়। এরপর চপল স্বামীর মত যাতায়াত করতে থাকে প্রেমিকার বাড়িতে। প্রেমিকা তাকে ইসলামী শরীয়ানুযায়ী বিয়ের চাপ সৃষ্টি করলে তিনি নানা তালবাহানার মাধ্যমে শুধু সময় ক্ষেপন করতে থাকেন।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ওই স্কুল শিক্ষিকা প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয়। এ সময় প্রেমিকসহ বাড়ির অন্যান্য লোকজন তাকে বেধড়ক মারধর করে বাড়ি থেকে টেনে-হেঁচড়ে বের করে দেয়। এরপর তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন।
খবর পেয়ে সুয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান সোহরাব ওই স্কুল শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ তাকে রক্ষা করেন।
এ ব্যাপারে ওই ভিকটিম বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে মনিরুজ্জামান। তিনি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদটুকু কেড়ে নিয়েছেন। বিয়ের জন্য তাকে চাপ দেয়া হলে তিনি শান্তনা স্বরূপ আমাকে নাকফুল পড়ায়।
এরপরও বিয়েতে রাজি না হলে তার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নিতে বাধ্য হই। মনিরুজ্জামানসহ তার বাড়ির সবাই আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছেন।
এ ব্যাপারে প্রেমিক মনিরুজ্জামান মারধরের কথা অস্বীকার করে জানায়, প্রেম-ভালোবাসা করলেই কী বিয়ে করতে হবে নাকি।
সুয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সোহরাব বলেন, ঘটনাটি খুবই অমানবিক। কাজেই মেয়েটির জীবন রক্ষায় হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছি। এর কঠোর বিচার হওয়া উচিৎ।
উৎস: যুগান্তর