সিসি নিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়া মহল্লার নবীনগরে শিশু নাজিয়াকে (৯) ধর্ষণের চেষ্টার মামলার প্রধান আসামী সুজন (২৫) বহাল তবিয়তে রয়েছেন। প্রকাশ্যে ওই আসামী মহল্লায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছেননা বলে পুলিশের এমন বক্তব্য সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করছে বলে নাজিয়ার পিতা-মাতা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে।
নাজিয়ার মা সীমা বেগম সিসি নিউজকে জানান, ওই ঘটনার পর থেকে নাজিয়া আর স্কুলে যায় না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তার সহপাঠিরা নাজিয়াকে তাদের পাশে বসতে দেয়না। যে ব্রেঞ্চটিতে নাজিয়া বসে সেটিতে আর কেউ বসেনা। এতে আমার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। সে বাসায় এসে কাঁদতে থাকে। এমতাবস্থায় আমরা আর তাকে স্কুলে পাঠাই না- এ কথাগুলো বলে অঝরো কাঁদতে থাকে নাজিয়ার বাবা-মা। নাজিয়া সৈয়দপুর মিস্ত্রিপাড়া (মামা) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেনীর ছাত্রী।
নাজিয়ার বাবা পারভেজ হোসেন সিসি নিউজকে জানান, মামলার ২নং আসামী একই মহল্লার মৃত বছির উদ্দিনের পুত্র শামীমকে (৪০) পুলিশ আটক করলেও দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও মামলার মূল আসামী সুজনকে অজ্ঞাত কারণে আটক করছেনা। সে নির্বিঘ্নে বাসায় অবস্থান করে মহল্লায় চলাফেরা করছে। এমনকি প্রতিদিন তার কর্মস্থল সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় দায়িত্ব পালন করছে। অথচ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে (সুজনকে) পাওয়া যাচ্ছে না বলে কালক্ষেপন করছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আসামী সুজন এলাকায় বখাটে যুবক হিসেবে পরিচিত। এর আগেও মহল্লায় বিভিন্ন ধরনের কুকর্মের ঘটনা রয়েছে। কিন্তু আমরা গরীব মানুষ বলে এর সুবিচার পাচ্ছিনা। তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপের পাশাপাশি মামলার ন্যায় বিচারের জন্য সমাজের মানুষদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তিনি আরো জানান, আমার মেয়েকে হাসপাতালে নেয়া এবং মামলা দেরীতে করার পেছনে একজন কাউন্সিলর কৌশল করেছেন। যা এখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। ওই কাউন্সিলর মেয়ের চিকিৎসার জন্য আসামীর নিকটজনের মাধ্যমে আমার হাতে ১০ হাজার টাকা জোর করে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তা ফেরত দেয়া হয়েছে। আর এ টাকা নেয়ার প্রসঙ্গটা প্রশাসন ও আসামী পক্ষের লোকজনই এখন অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এম আর সাঈদের সাথে। তিনি বাদীপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করে সিসি নিউজকে জানান, আসামী সুজনকে আটকের চেষ্টা চলছে কিন্তু পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছেনা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাদীকে সাথে নিয়ে আসামীর আত্মগোপনে থাকা সম্ভাব্য স্থানে খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিরুল ইসলাম সিসি নিউজকে জানান, আসামীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দিয়ে আসামীদ্বয় শিশু নাজিয়া ও তার ছোট বোনকে ১নং আসামী একই মহল্লার মৃত হায়দার আলীর পুত্র সুজনের বাসায় নিয়ে নাজিয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনার চার দিন পর (১৮/৪/২০১৬) শিশুটির মা নিজে বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত/০৩) এর-৯ (৪)(খ)/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে।