• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

যশোরে কালাজ্বরে আক্রান্ত নারীর সন্ধান

Jessore-kala-jor20160630145031 copyসিসি ডেস্ক: যশোরে প্রায় সাত দশক পর কালাজ্বর শনাক্ত হয়েছে। কালাজ্বর নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার এক রোগীকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কালাজ্বরে আক্রান্ত তাসলিমা খাতুন (৩৫) যশোর সদর উপজেলার নূরপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া রিকশাচালক নজরুল ইসলাম শেখের স্ত্রী। তাদের গ্রামের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কালীনগর গ্রামে। ১৯৪৭ সালের পর যশোরে কালাজ্বরের রোগী শনাক্ত করা হলো।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল জানান, কালাজ্বরে আক্রান্ত রোগী তাসলিমার চিকিৎসা চলছে। সরকারের কালাজ্বর নির্মূল প্রকল্পের আওতায় তার চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তা শিগগিরই যশোরে আসছেন। একই সঙ্গে ময়মনসিংহের কালাজ্বর গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদেরও এই রোগীর বিষয়ে জানানো হয়েছে। তারাও এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, যশোরে ১৯৪৭ সালে কালাজ্বরের রোগী শনাক্তের রেকর্ড আছে। এরপর গত সাত দশকে এই রোগে আক্রান্ত কোনো রোগীর সন্ধান মেলেনি। এবার তাসমিলা খাতুনের শরীরের কালাজ্বর শনাক্ত করা হয়েছে।
উকিপিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, কালাজ্বর হলো Visceral leishmaniasis, Sahib`s disease, Dumdum fever, Black fever একটি রোগ যা লিশম্যানিয়াসিস রোগের কয়েকটি প্রকারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর। লিশম্যানিয়া গণভুক্ত এক প্রকার প্রোটোজোয়া পরজীবী এই রোগের কারণ।
বেলেমাছির কামড়ের দ্বারা এটি বিস্তর লাভ করে। পরজীবীঘটিত রোগগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রোগ। বাংলাদেশের ৪৬টি জেলায় কালাজ্বর দেখা যায়। এর মধ্যে ময়মনসিংহ, পাবনা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও জামালপুর অঞ্চলে এই রোগটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম কুমার আচার্য্য বলেন, কালাজ্বরের জীবাণুর বাহক বেলেমাছি। এই রোগকে ইনফেশন ডিজিজ বলা হয়।
বুধবার পরীক্ষার-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাসলিমার শরীরে কালাজ্বরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কালাজ্বরের প্রাদুর্ভাব ময়মনসিংহ অঞ্চলে দেখা যায়। যশোর অঞ্চলে ১৯৪৭ সালের পর দেখা যায়নি। প্রায় সত্তর বছর পর যশোরে আবার কালাজ্বরের রোগী শনাক্ত হলো।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাসলিমা খাতুন জানান, ৬/৭ মাস আগে তিনি জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন।
সর্বশেষ যশোর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম কুমার আচার্যের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ৪/৫ দিন আগে তার শরীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কালাজ্বরে আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।
আক্রান্ত নারীর স্বামী রিকশাচালক নজরুল ইসলাম শেখ বলেন, অনেক ডাক্তার দেখিয়েও তার জ্বর কমছিল না। ডাক্তার সাহেব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান কালাজ্বর হয়েছে। এত দিনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন হাসপাতালে ভর্তির পর সরকারিভাবে চিকিৎসা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ