• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কুড়িগ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো তৈরি

kurigram_Bridge2মমিনুল ইসলাম বাবু (কুড়িগ্রাম): কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ না নেওয়ায় অবশেষে নিজেরাই নিজেদের দুর্ভোগ লাঘব করতে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করলেন বাঁশের সাঁকো। প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থ বাঁশের এই সাঁকোটি নির্মাণ করা হয় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা নদীবেষ্টিত শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সোনাইকাজী গ্রামে।
জানা গেছে, সোনাইকাজী গ্রামে গত ক’দিন আগে উজানের পাহাড়ি ঢলে ভেঙে যায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। বাঁধটির প্রায় ৮০ ফুটের মতো ধরলা গর্ভে বিলীন হয়ে গেলে ওই বাঁধের উপর দিয়ে যাতায়াতকারী রামপ্রসাদ ও সোনাইকাজী গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় ৮ সহস্রাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এর মধ্যে, এলাকাবাসী তাদের এই কষ্ট থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাহার আলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবেন্দ্র নাথ উরাঁওয়ের কাছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অংশটি মেরামতের জোর দাবি জানান। দুর্ভোগে পড়া মানুষদের কষ্টের দিক বিবেচনা করে ওই সময় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউএনও ভেঙে যাওয়া বাঁধটি পরিদর্শনে আসেন। তারা পরিদর্শনে আসলে আশ্বস্ত হন দুর্ভোগকবলিত মানুষ। কিন্তু তাদের আশা নিরাশায় পরিণত হয়। বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার প্রায় ১৫ দিন হতে চললেও কর্তৃপক্ষ এটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কর্তৃপক্ষের অবহেলার শিকার দুর্ভোগকবলিত সোনাইকাজী ও রাম প্রসাদ গ্রামের উদ্যোমী যুবক সিদ্দিক, তারেকুল, রাশেদুল, সুমন, তুহিন, হাফিজুল, রুবেল, রবিউল, আপেল, মমিনুল নিজেদের ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বাঁধের ভাঙা জায়গায় একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তারা এলাকাবাসীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি করে বাঁশ নিয়ে সাঁকো নির্মাণের কাজ শুরু করে। যুবকদের এই মহৎ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে  সাঁকো নির্মাণে অভিজ্ঞ এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ নজরুল ইসলাম মাস্টার, আজিজার রহমান, ইসরাইল হোসেন, নুর ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও শাহাজালাল মিয়া যুবকদের সঙ্গে মিশে সাঁকো তৈরি শুরু করেন। উদ্যোমী যুবকদের মধ্যে সুমন ইসলাম বাবু পরিবর্তন ডটকমকে জানান, এলাকাবাসীর যাতায়তের কষ্টের কথা ভেবে তিনি ও তার বন্ধুরা মিলে সাঁকোটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। অন্যের কাছ থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে এবং বন্ধুদের পকেটের পয়সা ও পরিশ্রমে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। এলাকার নজরুল ইসলাম মাস্টার জানান, উদ্যোমী যুবকদের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তিনি নিজেই সারাদিন যুবকদের পাশে থেকে তাদের এ কাজে প্রেরণা দিয়েছেন ও তদারকি করেছেন। সোনাইকাজী গ্রামের শিক্ষার্থী বুলবুল জানান, সাঁকোটি নির্মাণ হওয়ায় তারা খুশি হয়েছেন। পথচারী ও পল্লী চিকিৎসক গোলজার হোসেন জানান,  কর্তৃপক্ষ মানুষের কষ্টের দিকটি বিবেচনা না করলেও এলাকার যুব সমাজের এ উদ্যোগ আমাদের যাতায়াতের কষ্টটি একটু হলেও লাঘব করলো। অপর পথচারী মকবুল হোসেন জানান, বাঁশের সাঁকোটি ক্ষণস্থায়ী। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে ভেঙে যাওয়া বাঁধটি দ্রুত মেরামতের দাবি করেন।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, তিনি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙা জায়গাটি দেখে এসেছেন। এটি মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ