খুরশিদ জামান কাকন: সৈয়দপুর উপজেলায় লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের সন্নিকটে গাউসিয়া মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার পাশে কোন রকমে ময়লা আবর্জনার স্তপের পাশে গড়ে উঠা ভঙ্গুর একটা দোকান চোখে পড়ে। এগিয়ে গেলে দেখা মেলে এক মধ্য বয়সী মহিলা পুরনো আমলের মতো কয়লার উত্তাপে কাপড় লন্ডি করছেন যা বর্তমানের আধুনিক যুগে দেখতে পারা প্রায় দুর্লভ।
লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের অদূরে হাতীখানার বাসিন্দা লক্ষী রানি রায় জানান, তিনি এবং তার স্বামী শঙ্কর রায় প্রায় ২৫ বছর ধরে কয়লার উত্তাপে কাপড় লন্ডি করে কোন রকমে জীবন যাপন করছেন। সাংসারিক জীবনে তাদের দুই মেয়ে এবং এক বড় ছেলে রয়েছে। তারমধ্যে বড় ছেলে বিয়ে করে তাদের ছেড়ে নীলফামারী সদরে বসবাস করে। আর দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে ঠিক থাকলেও সেটাও ঝুলে রয়েছে নানান আর্থিক দূর্বব্যবস্থার কারনে। তাদের কর্মক্ষম যে ছেলের তাদের এই বয়সে দেখভাল করার কথা ছিলো সেই ছেলেই সম্পর্কের বাধন ছিন্ন করে দিয়ে বাবা-মাকে পর করে দিয়ে বিয়ে করে বউকে নিয়ে অন্যত্র
বসবাস করছে। যে মা নিজে না খেয়ে তার সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিত সেই সন্তান এখন খোজ খবর নেয়না তার গর্ভধারনকারী মায়ের। লক্ষী রানী রায়ের ভাষ্যমতে, সারাদিন লন্ড্রির কাজ করে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মতো আয় হয়। যা দিয়ে তাদের ৪ জনের দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করায় বড়ই কঠিন। তার উপর কোন কোন দিন কাজ না থাকলে তাদের না খেয়েই খুব কষ্টে দিন কাটাতে হয়। তিনি আরো জানান, বর্তমানের আধুনিক যুগে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ থাকায় সবাই ইলেক্ট্রনিক মিশিন দিয়ে কাপর লন্ড্রি করে। যার ফলে দিনে দিনে তাদের গ্রাহক সংখ্যাও পর্যায় ক্রমে কমছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের পারিবারিক ভাবে গড়ে উঠা ঐত্যিহ্য বাহী পেশা ধরে রেখে পেট চলায় হয়েছে এখন দায়। সময়ের সাথে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অনেক কিছুই উন্নত থেকে উন্নততর হয়েছে, কিন্তু কালের পরিক্রমায় লক্ষী রানী রায়ের বেচে থাকায় কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।