• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সবই আছে, তবুও নেই

dakboxএন এ আনসারী: অফিস ও লোকবল সবই আছে কিন্তু নেই তেমন কোন কাজ, থাকলেও চলছে সেই পুরোনো নিয়মেই। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের মানুষের তথ্য আদান প্রদানের অন্যতম মাধ্যম চিঠির বক্স!
‘নাই টেলিফোন নাইরে পিওন নাইরে টেলিগ্রাম, বন্ধুর কাছে মনের খবর ক্যামনে পাঠাইতাম’। ডিজিটাল যুগে এই গান এখন অনেকটাই বেমানান। বর্তমান কুরিয়ার সার্ভিস, ইন্টারনেট, মোবাইলের ডিজিটাল যুগে নুয়ে পড়েছে এক সময়কার মানুষ নিত্যদিনের সঙ্গী ডাকবক্স।
সৈয়দপুর ডাক অফিসের সামনে থাকা চিঠিবক্স আজ দাড়িয়ে আছে যেন অসহায় এক খাম্বারুপে। অনুরুপ সৈয়দপুর উপজেলায় পৌরসভা আর ৫টি ইউনিয়নে থাকা মোট ১৬টি ডাকবক্সের মধ্যে বেশিভাগ হারিয়ে গেছে বাকিসব যেটা আছে মরিচা ধরা এইসব ডাকবক্স যেন এখন মশা মাছির আবাস্থল। কোথাও আবার দিনের পর দিন খোলাও হয় না। অথচ এক সময় এর কদর ছিল আকাশচুম্বি। মহল্লায় ডাকপিয়ন প্রবেশ করলেই অনেকেই দরজা খুলে জিজ্ঞেস করতেন আমার কোন চিঠি আছে নাকি? প্রিয়জনের চিঠি পেয়ে খুশি আর আবেগে চোখের জ্বল ফেলা এখন শুধুই অতীত।
বর্তমান কুরিয়ার সার্ভিসের দাপটে থমকে যাচ্ছে বর্তমান ডাকঘরের কার্যক্রম। বর্তমানে ডাকঘরের কার্যক্রমকে কিছুটা অত্যাধুনিক করলেও সময়ের তুলনাই তা অপ্রতুল। আগে মানুষ ডাকঘরের মাধ্যমে টাকা বা চিঠিপত্র আদান-প্রদান করত তখন তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার এত অত্যাধুনিক ছিলনা। চিঠি অর্থ বা অন্যান্য সব কিছুই আনা-নেয়া করা হত যানবাহনে, ছিলনা ইন্টারনেটের এত ব্যবহার। সময়ের পরিবর্তনে বর্তমানে অনেক ব্যাংক ও কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেগুলো ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। অনলাইনের মাধ্যমে মহূর্তেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে তথ্য। ফলে সহজ ও দ্রুততম হয়ে উঠেছে অফিসিয়াল কার্যক্রম ও অর্থ লেনদেন। তথ্য প্রযুক্তির আধুনিকায়নের এই যুগে তাই মানুষ ডাকঘর বিমূখ হয়ে গেছে।
এক সময়কার মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী এই ডাকবক্সকে সচল করতে সৈয়দপুর সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ডাকবিভাগেও আধুনিক ছোয়া লাগাতে হবে। নতুন কিছু কার্যক্রম চালু,বর্তমানে ইমটিএস ও পোস্টাল ক্যাশকার্ড নামের নতুন সেবার উন্নতি করতে হবে যাতে ইমটিএস এর মাধ্যমে দেশের যে কোন প্রান্তের পোষ্ট অফিসে টাকা প্রদান করা আরো সহজ হয়। আর এরুপ করতে পারলেই ডাকবিভাগ ফিরে পেতে পারে পূর্বের  প্রাণচাঞ্চল্যতা। আবার হতে পারে অর্থ চিঠি বা বার্তা আদান-প্রদানের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এতে সরকারী কোষাগারে জমা পড়বে মোটা অংকের মুনাফা। চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী ডাকঘরের “ডাক বক্স” দিন বদলের সনদ বাস্তবায়নের কালে ডিজিটাল যুগে অনায়াসে হারিয়ে যাচ্ছে সভ্য সমাজের কাছ থেকে। এই চিঠির বক্সগুলো কী আগের মতো সচল হবে কোনোদিন। না, প্রযুক্তির উত্কর্ষ সাধনে এসব হারিয়ে যাবে কালের আবর্তে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ