• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

প্রতারক প্রেমিকের ডাকে সাড়া, অতঃপর…

228453_1.pngসিসি ডেস্ক: প্রেমিকের ঘরের উঠোনে শুয়ে আছেন কলেজছাত্রী। চারপাশে পাড়া প্রতিবেশির ভিড়। কেউ কিছু বলছে না। শুধু নির্বাক হয়ে দেখছে। কেউ কেউ মনে মনে আফসোসও করছে। কিন্তু প্রেমিকার ঘুম ভাঙছে না। পরে ভিড় জমানো লোকজন বুঝতে পারে, মেয়েটিকে নির্যাতন করে ফেলে রাখা হয়েছে। জ্ঞান হারিয়েছে অনেক আগেই।

এ দৃশ্যটি রোববার (১৭ জুলাই) সকালে চোখে পড়েছে শ্রীবর্দী সদর ইউনিয়নের কোকরার পাড় গ্রামের নাদের হোসেনের বাড়িতে।

ঘটনা জানাজানি হলে আত্মীয়-স্বজন এসে নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে মেয়েটির চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে শ্রীবর্দী হাসপাতালে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, কোকরার পাড় গ্রামের কলেজপড়ুয়া ওই ছাত্রীটির সঙ্গে একই গ্রামের নাদের হোসেনের ছেলে কলেজপড়ুয়া সোহেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ দেড় বছর ধরেই চলে আসছিল তাদের সম্পর্ক। দুজনের বাড়ি একই গ্রামে হওয়ায় মাঝে মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ হতো। সেই সঙ্গে মোবাইল ফোনেও কথা বার্তা হতো।

এক পর্যায়ে শনিবার (১৬ জুলাই) রাতে প্রেমিক সোহেল তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজ বাড়িতে ডেকে আনে। ঘটনা টের পেয়ে যায় সোহেলের পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশিরা। এতে প্রেমিক সোহেল তার মত পাল্টে ফেলে। পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেয়, মেয়েটি তাকে বিপদে ফেলার জন্যই বাড়িতে উঠে এসেছে। তাকে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেয়। এ সময় মেয়েটিকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

খবর পেয়ে শ্রীবর্দী সদর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম রাতেই ওই বাড়িতে উপস্থিত হন। মেয়েটিকে তার প্রেমিক সোহেলের ঘরে হেফাজতে রেখে পরদিন রোববার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলে চলে যান।

কিন্তু প্রেমিক সোহেল রাতেই তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে গাঢাকা দেয়। সকালে সোহেলের বাবা-মা, ভাই-বোন, ভাবি ও চাচা মেয়েটিকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু মেয়েটি যেতে না চাইলে তারা সবাই মিলে তাকে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর জখম করে ফেলে। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে উঠোনে ফেলে রাখে। সকালে ওই দৃশ্য দেখে সেখানে শত শত মানুষ জড়ো হয়।

খবর জেনে ঘটনাস্থলে এসে নির্যাতিতা মেয়েটির মামা তাতিহাটি ইউপি সদস্য আব্দুল আলী শ্রীবর্দী থানায় খবর দেন। কিন্তু থানা পুলিশ কোনো রকম ব্যবস্থা না নিয়ে নির্যাতিতাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেয়।

নিরূপায় হয়ে স্থানীয় জনতা আর আত্মীয় স্বজন মিলে মেয়েটিকে উদ্ধার করে শ্রীবর্দী হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

শ্রীবর্দী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস আলম জানান, ঘটনাটি কেউ জানায়নি বা অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎস: বাংলামেইল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ