বিশেষ প্রতিনিধি: ৭৬ জনের বাড়ি এবং ১৩টি সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পরিচালকসহ তার দালালেরা এক লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে দিনাজপুর জেলা দূর্নীতি কমন কমিশনে। মামলার পর মরিয়া হয়েছে হয়ে উঠেছে মামলার আসামীরা। তারা মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের জীবন নাশসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে আসছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিরল উপজেলাধীন রাংগন চেঢ়াইহাট এলাকার সহজ-সরল সাধারণ লোকজন পল্লী বিদ্যুৎ এর সংযোগ নেয়ার জন্য আবেদন করলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ লাইন সরকারীভাবে স্থাপন করে। সেখানে ১০৪ টি বাড়ি,১৮টি সেচ পাম্প ও দু’টি মসজিদের বিদ্যুৎ সংযোগের প্রাক্কলন তৈরী করে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বিরল উপজেলার ৬,৭,৮ ও ১০ নং ইউপি’র পরিচালক মো.হোসেন আলী মাষ্টার তার কথিত ধর্মপুত্র (দালাল) শান্ত চন্দ্র সরকার,পরিমল চন্দ্র সরকার,উকিল চন্দ্র সরকার,উমেশ চন্দ্র সরকার ও মতিন চন্দ্র সরকারের মাধ্যমে প্রত্যেক বাড়ি’র বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৭ হাজার ৫’শ এবং সেচ পাম্পের জন্য ৯ হাজার করে টাকা নির্ধারণ করে । ১০৪ টি বাড়ির সদস্য এবং ১৮টি সেচ পাম্পের মালিকগণ একত্রিত হলে ৩০ অক্টোবর’২০১৫ তারিখে আসামীগণ মিটারের জামানত ফি বাবদসহ অন্যান্য ফি বাবদ এক যোগে এক লাখ ৫৯ হাজার ৭’শ টাকা গ্রহণ করে। কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর আসামীগণ বাকি টাকা নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এদিকে টাকা জমা দেয়া বাড়ি ও সেচ পাম্পের মালিকগণ ২৭ ডিসেম্বর’২০১৫ তারিখে পল্লী বিদ্যু অফিসে খোজ নিয়ে যানতে পারে তাদের টাকা অফিসে জমা হয়নি। আসামীগণকে এ বিষয়ে অনুযোগ করা হলে তারা আরও ২ হাজার টাকা করে প্রতিজনের কাছে দাবী করেন। ওই টাকা দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে বলে জানায়।এঘটনার পর এখন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি ওনসব বাড়ি ও সেচ পাম্পে। ফলে প্রতারিত ব্যক্তিরা বাধ্য হয়ে দিনাজপুর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে একটি প্রতারণা মামলা করেন। যার নং স্পেশাল কেস ২৮/২০১৬। আদালতের মাননীয় বিচারক মামলাটি ২২ জুন দিনাজপুর জেলা দূর্নীতি কমন কমিশনে নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।
এদিকে জেলা দূর্নীতি কমিশনে মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর মামলার আসামীরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তারা মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের জীবন নাশসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে আসছেন।