• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ডিমলায় বিলুপ্ত ছিটমহলের সুযোগ নিচ্ছে জন্মসূত্রে বাংলাদেশীরা

ডিমলাডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় একটি পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নাগরিক থাকলেও হঠাৎ করে তারা ২৯ নং বিলুপ্ত ছিট মহল বড় খানকি খারিজা গিতালদহের বাাসিন্দা সেজে এখন সকল সুযোগ সুবিধার ভাগদিার হযেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ।

সূত্রে জানা য়ায়, উপজেলার টোপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা হামিদুর রহমান এর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে বসবাস করলেও এখন অজানা কারনে তারা সকলে বিলুপ্ত ছিট মহলের বাসিন্দা সেজেছেন। অভিযোগে প্রকাশ, উক্ত গ্রামের বাসিন্দা হামিদুর রহমানের পুত্র মিজানুর রহমান,মমিনুর রহমান,মোঃ আলিম ও মোঃ সেলিম যাদের জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর যাথাক্রমে-৭৩১১২২৮৪৩২৫৯৯, ৭৩১১২২৮০০০০২৯, ৭৩১১২২৮০০০০৩০। মিজানুর রহমানের স্ত্রী মোছাঃ মাজেদা বেগম যার ভোটার আইডি নং-৭৩১১২২৮৪৩৪২০৫। মমিনুর রহমান বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সিংগাপুরে অবস্থান করছে। অপর দিকে মিজানুর রহমান ১৯৯৬ সাল থেকে ডিমলা তিতপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরীরত রয়েছেন। যার ব্যাংক হিসাব নং-এইচ-১১৪৪/৩৮ ও  ইনডেক্স নং-৫৬৪২৭৯। অপর দিকে মিজানুরের স্ত্রী ২০০৬ সাল থেকে পশ্চিম খড়িবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরীরত। যার ব্যাংক হিসাব নং-টি-৭১৯। পরিবারটির সকল সদস্য দেশের প্রচলিত আইনে নাগরিকত্বের সকল সুবিধা ভোগ করে আসছেন। গেল বছর হতে বিলুপ্ত ছিটমহলে বসবাসকারী বাসিন্দা দীর্ঘদিনের লাঞ্চিত বঞ্চিত ও বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ায় সরকার এসব বিলুপ্ত ছিট মহলের বাসিন্দাদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা ও তাদের বসাবাসের জায়গা-জমি,ঘর-বাড়ী, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ নানাবিধ সুযোগ সুবিধার আওতায় এনে তাদেরকে এসব সুযোগ সুবিধা দেওয়া প্রদান করছেন। সরকারের এসব সুযোগ সুবিধার লোভে বিলুপ্ত ছিটমহল বড় খানকি খারিজা গিতালদহ ছিটের বাসিন্দা সেজে সরকার বাহাদুরের কাছে জায়গা জমি কবুলিয়ত এবং বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেতে আবেদন করেন। উক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান।  তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে ইতি মধ্যেই উক্ত ছিটের বাসিন্দা হিসেবে মিজানুর রহমানসহ তার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে ১০ শতাংশ করে জমি কুলিয়ত দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। যার খতিয়ান নং-৩৬, মৌজা-পশ্চিম খড়িবাড়ী, জেলএল নং-১৬,হালদাগ নং-৮৫, পুকুর জমি ও রাজস্ব-১০২০ মূলে মালিক মিজানুর রহমান, মমিনুর রহমান, আলিম ও সেলিম সকলের পিতা- হামিদুর রহমান। তাদের দেয়া হয়েছে ৪টি পাকা লেট্রিন ও ৪টি সেলাই মেশিনসহ নানাবিধ সুযোগ সুবিধা । এ ঘটনায় এলাকাবাসীরা জানায়, কিভাবে একই ব্যক্তি দুই জায়গার বাসিন্দা হয়। তারা নিজেদের তথ্য গোপন করে শুধুমাত্র সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা নেওয়ার জন্যই নিজেদের তথ্য গোপন করে ছিট মহলের বাসিন্দা সেজে সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন  যা তথ্য গোপন আইনে দন্ডনীয় অপরাধ। অথচ তারা প্রকাশ্যেই বাংলাদেশ ও বিলুপ্ত ছিট মহলের বাসিন্দা সেজে রয়েছেন। ঘটনার সূত্র ধরে তিতপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে কথা হয় প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দদের সাথে তারা জানান, মিজানুর রহমান তৎকালীণ সময়ে ছিট মহলের বাসিন্দ হওয়ায় তাকে কমিটি নিয়োগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে তখন তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১০ শতাংশ জমি করে করে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিলে তবেই তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। বিষয়গুলি নিয়ে এলাকার সচেতন ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক হাছেন আলীর পুত্র লোকমান হোসেন, নুর”ল ইসলাম গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা জানান, আজ থেকে ২৫/৩০ বছর মিজানুর মাষ্টার ছিট মহলের বাসিন্দা হলেও নিজেদের তথ্য গোপন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জায়গা জমি ক্রয় করে দেশের নাগরিক হয়ে সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহন করেন। আবার যখন ছিট মহলগুলি বিলুপ্ত হয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হলো তারা আবারও নিজেদের তথ্য গোপন করে ছিট মহলের বাসিন্দা সেজে বিলুপ্ত ছিটের সুবিধা নিচ্ছে। তাহলে তারা আসলে কোথাকার নাগরিক প্রশ্ন সচেতন মহলের কাছে?

এ ব্যাপারে মিজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রসঙ্গে কথা কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন ও গয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ ইবনে ফয়সাল মুন একই কথা বলেন। তারা বলেন, দেশের প্রায় সবগুলি বিলুপ্ত ছিট মহলে এ ধরনের সমস্য রয়েছে। তবে কোন তথ্য গোপন করা অপরাধ। এসব সমস্যা সমাধানে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ