যশোর: যশোরের কথিত জঙ্গি কামজ্জামান তুহিন ওরফে মুন্না আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কোতোয়ালি থানায় হাজির হয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে তিনি থানায় হাজির হন। পুলিশের তালিকাভুক্ত জঙ্গি চিহ্নিত হওয়ার পর সোমবার ভোরে ঢাকা থেকে নববধূকে নিয়ে যশোর শহরের শঙ্করপুর এলাকার বাসায় ফেরেন প্রায় তিন বছর নিখোঁজ থাকা কামরুজ্জামান তুহিন ওরফে মুন্না। পুলিশ রবিবার যশোরের পাঁচজনকে জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত বলে ছবিসহ পোস্টার ছাপায়। মুন্নার অবস্থান সেই তালিকার এক নম্বরে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে মুন্না কোতোয়ালি থানায় আসেন। তার সঙ্গে এ সময় বাবা-মা-ভাই ছাড়াও আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছিলেন। দুপুর পৌনে একটার দিকে থানায় আসেন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। তিনি থানার অফিসার, মুন্না ও তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।
থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সুপার উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুন্নার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়রি করে বলা হয়েছিল সে নিখোঁজ, জঙ্গি তৎপরতায় সংযুক্ত হতে পারে। পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকেরা খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারে প্রায় তিন বছর মুন্নার খোঁজ নেই। ফলে তাকে জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত বলে ধরে নেয় পুলিশ।’
মুন্নার বাবা আবদুস সোবহান বলেন, সারা দেশে জঙ্গি তৎপরতা শুরুর পর স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা তাকে ছেলে নিখোঁজের ব্যাপারে সাধারণ ডায়েরি করতে থানায় নিয়ে আসেন। সে অনুযায়ী থানায় জিডি করা হয়।
মুন্নার ছোটভাই যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ছাত্র আবদুল আহাদ বলেন, ‘জিডিতে আমরা যা লিখতে চেয়েছিলাম, পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পুলিশ ইচ্ছামতো জিডি লিখেছে, যেখানে হয়তো আমার ভাইকে জঙ্গি হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, এখন মুন্না পুলিশ হেফাজতে থাকবে। তার বিষয়ে পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা যাচাই-বাছাই করবে। নির্দোষ হলে তাকে পরিবারের হেফাজতে ফিরিয়ে দেয়া হবে। আর দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী তাকে আইনগত সহায়তাও দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
থানায় অবস্থানকালে মুন্না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মা আমার মুখ দেখতে না চাওয়ায় ক্ষোভে-অভিমানে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যাই। সেখানে কাজ-কর্ম করে জীবন চালাচ্ছিলাম। এর মধ্যে ইয়াসমিন আক্তার নামে একটি মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। জড়িয়ে পড়ি প্রেমের সম্পর্কে। গত রবিবার তাকে বিয়ে করি। এদিনই স্ত্রীকে বাড়িতে আনার জন্য মায়ের কাছে ফোন করি। মা আমার কণ্ঠ শুনে কান্নাকাটি করেন। পরে ছোটভাই আহাদকে বিয়ের কথা বলি। তখন সে আমার ঠিকানা জানতে চায়। ঠিকানা বলার পর আব্বা এসে আমাকে আজ স্ত্রীসহ আমাকে যশোরে নিয়ে আসে।