মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। টানা ৯দিন ধরে স্থায়ী বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। প্রবল স্রোতের টানে ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও মূল্যবান সম্পদ। পানিবন্দী মানুষগুলো পড়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে। বন্যায় পাকা ও কাচা সড়ক ডুবে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ধরলা নদীর পানি ১০২ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ৯ উপজেলার ৫৫টি ইউনিয়নের ৭১২ গ্রাম এখন পানির নিচে। এতে পানিবন্দী হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬টি পরিবারের ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩ জন মানুষ। একই সময় নদী ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে ৫ হাজার ৬০০ পরিবার। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার উপর এবং কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১০২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামরী সড়ক, কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী সড়কের আরডিআরএস অফিস সংলগ্ন, কুড়িগ্রাম-কালীগঞ্জ সড়কের মন্নেয়ারপাড় এলাকায় পাকা রাস্তায় পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কে ৩ দিন ধরে গরু ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলা বন্যা কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব মোল্লা জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে ৫৫টি ইউনিয়নের ৭১২ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ৯৮২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে আছে। শুধু পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩ জন।
এছাড়াও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ হাজার ৭৭৫ জন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ ও কার্লভাটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার সংখ্যা ৪৯৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার। এছাড়াও ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১৫৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চলমান বন্যায় ৭ হাজার ৭৫৭ হেক্টর ফসল জলমগ্ন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৫৬ জন কৃষক। এর মধ্যে শাকসবজি ৮৩৯ হেক্টর, বীজতলা ২ হাজার ৩২২ হেক্টর, রোপা আমন ৩ হাজার ৮৬ হেক্টর, আউশ ৭৯৫ হেক্টর ও পাট ৭১৫ হেক্টর। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, ২৪৪টি বন্যা কবলিত স্কুলের মধ্যে ১৮৮টিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৯টি স্কুল। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব জানান, এ পর্যন্ত ৫০০ মে. টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিতরণ হয়েছে ৪০০ মে.টন। প্রাপ্ত ৮ লাখ টাকার মধ্যে ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোবাকেলার জন্য আরো ১৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল চাওয়া হয়েছে। অপর দিকে চিলমারীতে চিলমারী অষ্টমীর চর ইউনিয়নে বুধবার বন্যার্তদের ২০০ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( অতিরিক্ত দাঃ)মোঃ রফিকুল ইসলাম, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব ,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যন আব্দুল কুদ্দুছ সরকার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মজিনা বেগম জেলী, চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সিরাজদ্দুলা উপস্হিত ছিলেন ।
রাজিবপুরে বিদ্যুৎ পৃষ্টে নিহত ১
বিদ্যুৎপৃষ্টে রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে আনোয়ার হোসেন (৩৫)নামের ১জন নিহত হয়েছে। রাজিবপুর হাসপাতাল সুত্রে ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টা নয়াচর মধ্যপাড়া গ্রামের হানিফ ফকিরের পুত্র সানোয়ার হোসেন বিদ্যুতের তারে আটকে পরলে আত্মীয়-স্বজন তাকে দ্রুত রাজিবপুর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শাওন দাস পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত্যু ঘোষনা করে। এ ব্যাপারে ঢুষমারী জল থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে বলে থানা সুত্রে জানা গেছে।