মোঃ হাবিবুর রহমান, চিলমারী: বাবা কি করবার আইছেন দেখবার না ছবি তুলবার। বৃষ্টি হইলে ভিজি রোদ হলে ঘাম ঝড়ে এই হইলো আমার বর্তমান খবর। ‘ দুর্গতির শ্যাষ আছে হামার। এ্যালাও বাড়িত পানি। উপায় নাইরে বাবা তাই হেলিপ্যাডে আছি পড়ি। কথাগুলো বললেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার জুম্মা পাড়া স্বামী হারা ছকিনা বেওয়া। এক সপ্তাহ আগে সড়ক বাঁধ ভেঙ্গে বাড়িঘরে বন্যার পানি ওঠার পর ছেলে সন্তানসহ তিনি হেলিপ্যাটে আশ্রয় নিয়েছেন। একই কথা বলেন থানাপাড়ার রেললাইনে আশ্রয় নেয়া বালিজান(৬৫)।
ছকিনা, বালিজান, আব্দুর ছাত্তার, ফকর উদ্দিন, বেলিজানদের মতো কয়েকশত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে হেলিপ্যাড, রেললাইন, স্টেশন, কুড়িগ্রাম-চিলমারী পাকা সড়ক ও বাঁধে।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মজিদের পাড়, বনবিভাগ, ডাওয়াইটারী, পাকা সড়ক ও রেললাইনের দুই পাশে শুধু পানি আর পানি। ঘরবাড়ি ছেড়ে গবাদিপশুসহ স্থানীয় মানুষ আশ্রয় নিয়েছে উচু স্থানে। চিলমারী হেলিপ্যাডে প্রায় ৫০টি পরিবারকে মাথার ওপর ত্রিপল, প্লাষ্টিক, কাপড় দিয়ে বৃষ্টি, প্রচন্ড রোদ আর গরমেই বাস করতে হচ্ছে। সেখানে আছমা বেগম নামের এক গৃহবধূ বলেন, ‘হাউস করি কেউ এ্যাটে থাকে? এ্যালাও সবার বাড়িত এক বুক করে পানি। বাড়ি ছাড়ি কেউ তাঁবুত থাকে? রেললাইনে আশ্রয় নেয়া ডেমনার পাড় এলাকার মেরেজান বেওয়া বলেন এক সপ্তাহ আগে বাঁধ ভেঙ্গে বাড়িঘরে বন্যার পানি ওঠার পর পরিবারসহ কষ্টে আছি এই গরমেত থাকা যায় না। বৃষ্টি হলি কাপড় ভিজি যায়। জুবুথুবু করি থাকি।’ রমনা রেলস্টেশনে আশ্রয় নিয়েছে ১০টি পরিবার। স্টেশনের কুলি সর্দার আবদুল মজিদ বলেন, গত ২৮ জুলাই হঠাৎ পানি বেড়ে যায়। পরদিন রেললাইনের কাছে পানি চলে আসে। এর দু’দিনপর লোকজন গবাদিপশুসহ রেললাইনে আশ্রয় নেয়। একদিকে মাটি নরম, তার ওপর মানুষ আশ্রয় নেওয়ায় ৩১ জুলাই থেকে কর্তৃপক্ষ ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এখনো পরিবারগুলো সেখানে অবস্থান করছে। চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বীর বিক্রম বলেন, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বুরুজের পাড় এলাকায় সড়ক বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে পুরো চিলমারী প্লাবিত হয়। বানভাসী মানুষের জন্য সরকারী ভাবে ত্রাণ বিতরন করা হচ্ছে। তবে অপর দিকে হেলিপ্যাডে, রেললাইন, স্টেশনে, রাস্তায় আশ্রয় নেয়া মানুষজন সহ বিভিন্ন এলাকার বানভাসীরা অভিযোগ করে বলেন সরকারী বা বে-সরকারী, এনজিওদের মাধ্যমে যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হচ্ছে তা সঠিক ভাবে বিতরন না করেই চেয়ারম্যান, মেম্বার, ট্যাগঅফিসারসহ দায়িত্বরতা তা ছয়নয় করছে ফলে বেশির ভাগ বানভাসীরা বঞ্চিত হচ্ছে এসময় তারা আরো বলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন হচ্ছে শুধু এটাই সঠিক ভাবে বিতরন হচ্ছে এবং সঠিক লোক পাচ্ছে। তবে ত্রাণ বিতরণ সঠিক ভাবেই চলছে দাবি করে চিলমারীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম (অতিঃ) বলেন, অভিযোগ সঠিক নয়।