মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম: দীর্ঘ ৮ বছরেও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পায়নি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার তিন গ্রামের এক হাজারেরও বেশি মানুষ। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার ১৯৮টি গ্রামের মধ্যে ১৯৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সবার মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়। সে সময় বাদ পড়ে যায় ওই তিনটি গ্রামের এক হাজার বাসিন্দা। কিন্তু বর্তমানে নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন কাজে জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। বুধবার সরেজমিনে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের লালকুড়া, চরলালুড়া ও বাইমমারী গ্রাম ঘুরে ও নির্বাচন অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। বাইমমারী গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পাননি তিনি। তার মতো জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় ঢাকার এক গার্মেন্টসে চাকরি করতে গিয়ে ফিরে এসেছেন একই গ্রামের রহুল আমিন। যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সরবেশ আলী জানান, ওইসব মানুষের এনআইডি তৈরির কাজ শেষ করেছিলেন। সব গ্রামের মানুষ কার্ড পেলেও বাদ পড়ে যায় ওই তিন গ্রামের কিছু মানুষ। স্থানীয়রা জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় বেশি বিপাকে পড়েছেন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা। তারা সিমকার্ড নিবন্ধন, জমি নিবন্ধন ও খারিজ, ব্যাংক হিসাব খোলা, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণসহ নানা সুবিধা পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে একাধিকবার নির্বাচন অফিসকে জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের। অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে রৌমারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুছ সরকার বলেন, ভুলে বা কোনো সমস্যায় কার্ডগুলো বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে কৃর্তপক্ষের কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দুই তিন মাসের মধ্যেই একটা সমাধান হবে।