খুরশিদ জামান কাকন: সুজলা-সুফলা সোনার বাংলাদেশের মাঠে মাঠে ফসল, বৃক্ষে বৃক্ষে ফুল-ফল, নদীনালা ভরা প্রচুর মাছ। ছায়ায় ঘেরা সবুজের সমারোহে ভরপূর্ন বাংলাদেশে রয়েছে পাখির উপযুক্ত ভূ-পরিবেশ।
.
একসময় পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকতো গ্রাম-গঞ্জের শান্ত পরিবেশ। দিনের শেষে সন্ধায় নামতো নীড়ে ফেরা পাখির কলরব। গভীর রাতেও শুনা যেতো রাত জাগা পাখির চঞ্চলতা। কিন্তু সময়ের সাথে এখন সবি হারিয়ে যেতে বসেছে। বাংলাদেশে অসংখ্য পাখির জাত থাকলেও কিছু কিছু পাখির জাতের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। বনজঙ্গল কেটে বসতি গড়ায় পাখির নিরাপদ আবাসস্থলের অভাব দেখা দিয়েছে। যার ফলে দিনে দিনে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতিতে চঞ্চলতা সৃষ্টি করা কিছু জাতের পাখি। এ পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থলের কথা চিন্তা করে পাখির অস্তিত্ব রক্ষার্থে কিছু উদ্যমী যুবক হাতে নিয়েছে গাছে গাছে পাখির আবাস স্থল গড়ে তুলার কাজ। তারা নিজেরাই “সেতুবন্ধন” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন খুলে নিজেদের অর্থায়নে গাছে গাছে পাখিদের বাসস্থল হিসেবে কলস লাগিয়ে বেরুচ্ছে পুরো সৈয়দপুরব্যাপী।
.
সংগঠনটির আহব্বায়ক আলমগীর হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, পাখি প্রকৃতির এক দৃষ্টিনন্দন উপকরণ। মানুষের মানুসিক প্রশান্তির অনুষঙ্গ হিসেবেও বিবেচিত এই পাখি। জীববৈচিত্রের অন্যতম উপাদান হিসেবে পাখি প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রেখে আসছে। কিন্তু বর্তমানে আবাসস্থলের নিরাপত্তার অভাবে পাখির বংশবিস্তার ঘটছে কম। যার ফলে কিছু জাতের পাখির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। তাই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসেবে পাখির নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলার পরিকল্পনা।
.
দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ আলমগীরদের গড়া “সেতুবন্ধন” সংগঠনটি যেনো এ প্রবাদের উদাহরণ। সংগঠনটির কর্মকান্ডের সাথে একাত্ম ঘোশনা করে অনেকে এগিয়ে এসেছেন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে।
.
স্থানীয় প্রানিসম্পদ মন্ত্রালয়ের কর্মকর্তা শাহজালাল খন্দকার জীববৈচিত্রের ভারসাম্য রক্ষার্থে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এমন উদ্দ্যেগ গ্রহন অনস্বীকার্য বলে জানান।